ঢাকা
১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ২:০২
প্রকাশিত : জুলাই ১৪, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ১৪, ২০২৬

ঘোষণার পরও বন্ধ হয়নি প্রিপেইড মিটারের ভাড়া: কাগজে-কলমে স্বস্তি, বাস্তবে পকেট কাটা !

আজকাল বাংলা ডেস্ক:

সরকারের উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রীর আশ্বাসের পরও মাঠ পর্যায়ে বন্ধ হয়নি বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া এবং ডিমান্ড চার্জ আদায়। বর্তমান প্রশাসনের '১০০ দিনের সাফল্য' তালিকায় এই চার্জ প্রত্যাহারের বিষয়টি বড় করে প্রচার করা হলেও, বাস্তবে রিচার্জের সময় আগের নিয়মেই গ্রাহকদের পকেট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি, ক্ষোভ ও গণ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

দেশজুড়ে গ্রাহকদের এই দুর্ভোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েআজকাল বাংলা’র এর বিশেষ প্রতিবেদন:

কাগজে-কলমে 'সাফল্য', বাস্তবে ভিন্ন চিত্র

গত মার্চ ও জুন মাসে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ পুরোপুরি বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছিল [BNP Media Cell] রাজনৈতিকভাবে এটিকে বর্তমান প্রশাসনের একটি বড় জনবান্ধব সাফল্য হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা বেসরকারি চাকুরিজীবী কামরুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, "ফেসবুকে ও নিউজ পোর্টালে দেখলাম সরকার প্রিপেইড মিটারের ভাড়া মাফ করে দিয়েছে। কিন্তু গতকাল যখন ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলাম, তখন আগের মতোই সিঙ্গেল ফেজ মিটারের ভাড়া ও ডিমান্ড চার্জ বাবদ বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হলো। সরকারের কথার সাথে কাজের কোনো মিল পাচ্ছি না।"

বিদ্যুৎ অফিসের হাত-পা বাঁধা, মেলেনি প্রজ্ঞাপন

বাস্তবে কেন টাকা কাটা বন্ধ হচ্ছে না, তা জানতে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা (ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো এবং পিডিবি)-এর স্থানীয় গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান তাদের হাত-পা বাঁধা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডেসকোর একজন কর্মকর্তা বলেন, "মন্ত্রী মহোদয় বা রাজনৈতিকভাবে ঘোষণা দিলেই আমরা চার্জ নেওয়া বন্ধ করতে পারি না। বিদ্যুৎ বিলের যেকোনো ট্যারিফ বা চার্জ পরিবর্তন করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পক্ষ থেকে লিখিত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন আসতে হয় [BERC] আমাদের কাছে এখনো তেমন কোনো অফিশিয়াল আদেশ আসেনি। তাই অটোমেটিক সিস্টেমের আগের নিয়মেই টাকা কাটছে।"

নেট দুনিয়ায় প্রতিবাদের ঝড়

এদিকে জুন ও জুলাই মাসের রিচার্জে আগের মতোই টাকা কেটে নেওয়ায় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অনেক গ্রাহক তাদের রিচার্জের ডিজিটাল স্লিপ বা মোবাইলের মেসেজের স্ক্রিনশট পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই একে "জনগণের সাথে এক ধরণের তামাশা" হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। সমন্বয়হীনতার এই চরম বহিঃপ্রকাশে ক্ষুব্ধ জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব (CAB)

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ও বিইআরসির আইনি আদেশ জারি না করে কেবল সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এমন বড় ঘোষণা দেওয়া সরকারের ভুল ছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও বিদ্যুৎ অফিসের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের মুখোমুখি এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, প্রিপেইড মিটারের ভাড়ার বিষয়টি তারা পুনরায় গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে [Review] তবে কবে নাগাদ এই প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং সাধারণ মানুষ এই বাড়তি খরচের বোঝা থেকে মুক্তি পাবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব মেলেনি। গ্রাহকদের দাবি—ঘোষণা যেহেতু দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করে টাকা কাটা বন্ধ করা হোক।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram