ঢাকা
১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:৫৭
প্রকাশিত : জুলাই ১৩, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ১৩, ২০২৬

অবৈধ ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ না হলে ৩২০ কোটি টাকার ফোরলেন প্রকল্প হুমকিতে

এস এম আওলাদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুরে অনিবন্ধিত ও অতিরিক্ত মালবাহী ড্রাম ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে একদিকে যেমন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারের প্রায় ৩২০ কোটি টাকার চার লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যেখানে সড়কের নকশাগত বহনক্ষমতা (ফিটনেস) ২২ টন, সেখানে inবালুবাহী অনেক ড্রাম ট্রাকে প্রায় ৪৫ টন পর্যন্ত মাল বহন করা হচ্ছে। এতে নতুন ও পুরোনো সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল থেকে চন্দ্রগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উভয় পাশে ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক এবং মাঝখানে ডিভাইডার নির্মাণ করা হবে। তবে চলমান উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের ড্রাম ট্রাক চলাচল অব্যাহত থাকলে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কগুলোর একটি। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ১৫ থেকে ২০ জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে সড়কটির ওপর চাপও তুলনামূলক বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলায় প্রায় পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় ড্রাম ট্রাক চলাচল করলেও অধিকাংশেরই বৈধ নিবন্ধন, ফিটনেস কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট বালুঘাট থেকে অতিরিক্ত বালু বহন করে এসব ট্রাক মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে অবাধে চলাচল করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনের বেলায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভেজা বালু বহনের কারণে ট্রাক থেকে সড়কে পানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজনের কারণে নতুন নির্মিত সড়কও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফোরলেন প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়কের অনুমোদিত বহনক্ষমতা ২২ টন হলেও অনেক ড্রাম ট্রাক প্রায় দ্বিগুণ ওজন বহন করছে। এতে সড়কের আয়ুষ্কাল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন, "আমাদের সড়কের বহনক্ষমতা ২২ টন। কিন্তু অনেক বালুবাহী ড্রাম ট্রাক প্রায় ৪৫ টন পর্যন্ত মাল বহন করছে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে ওজন পরিমাপের স্কেল (ওয়েইব্রিজ) স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

লক্ষ্মীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত যানবাহনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন পেলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।"

সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবৈধ ড্রাম ট্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়বে, অন্যদিকে জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত শত শত কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও অকালেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অবিলম্বে অনিবন্ধিত যানবাহন জব্দ, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram