

ইসলাম ডেস্ক:
সৃষ্টিকর্তার নিকট সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্তরের তাকওয়া (আল্লাহভীতি), বাহ্যিকপোশাক নয়। ইসলামি শরিয়তের মূল নীতি অনুযায়ী, আল্লাহর দরবারে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো তার মনের পবিত্রতা ও তাকওয়া।
পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মূল ভিত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন:
"নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান (আল্লাহভীরু)।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩)
এখানে আল্লাহ বংশ, রূপ কিংবা পোশাকের কথা বলেননি, বরং শুধু তাকওয়ার কথা বলেছেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিষয়টি আরও সহজ করে উম্মতকে বুঝিয়ে গেছেন:
সহীহ মুসলিমের হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের শরীর বা বাহ্যিক রূপ দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর এবং আমলদেখেন।"
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের বুকের দিকে ইশারা করে তিনবার বলেছিলেন, "তাকওয়া এখানে থাকে।" অর্থাৎ, এটি হৃদয়ের ভেতরের বিষয়, পোশাকের কাপড়ে নয়।
ইসলামে পোশাকের মূল উদ্দেশ্য হলো দুটি— সতর বা লজ্জাস্থান ঢাকা এবং সৌন্দর্য রক্ষা করা। তবে পোশাকের ক্ষেত্রেও আল্লাহ তাকওয়াকেই এগিয়ে রেখেছেন:
"আর তাকওয়ার যে পোশাক, সেটাই হলো সর্বোত্তম।" (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ২৬)
বাহ্যিক সুন্নতি বা শালীন পোশাক পরা অবশ্যই সওয়াবের কাজ এবং তা তাকওয়ার একটি বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু অন্তরে আল্লাহর ভয়, সততা ও মানুষের প্রতি দয়া না রেখে শুধু বাহ্যিক পোশাকের কোনো মূল্য আল্লাহর কাছে নেই। তাই সৃষ্টিকর্তার নিকট অন্তরের শুদ্ধতা ও তাকওয়াই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
