ঢাকা
১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ২:০৩
প্রকাশিত : জুলাই ১৪, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ১৪, ২০২৬

মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাস ওরফে তৌহিদ ৪ দিনের রিমান্ডে

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে গ্রেপ্তার হওয়া হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে দুই সন্দেহভাজন ‘র’ এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার, হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতারকৃত শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিজ্ঞ আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে বলেন, মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট উপাদান নেই। তাদের দাবি, হরিদাস একটি মন্দির পরিচালনা করেন এবং তার ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ মূলত ভক্তদের স্বেচ্ছায় প্রদত্ত অনুদান।

শুনানির সময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস বলেন, তিনি আগে কৃষিকাজ করতেন, বর্তমানে একটি মন্দির পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য, মন্দির পরিচালনা করাই যদি অপরাধ হয়ে থাকে, তবে তার কিছু করার নেই। বিচারক ভক্তদের দেওয়া অর্থ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেগুলো ভক্তদের স্বেচ্ছায় দেয়া অনুদান।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইন জীবীদের মধ্যে যুক্তিতর্ক হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, প্রয়োজন হলে কারাগারের ফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে, রিমান্ডের প্রয়োজন নেই। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রোববার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

একই দিন বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য এবং সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে তার নামে থাকা ৫টি ব্যাংক হিসাব এবং ৪টি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার ঘোষিত ব্যবসার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি এসব হিসাবে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা সিআইডি প্রাথমিকভাবে হুন্ডির অর্থ বলে সন্দেহ করছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বৈধ হিসেবে প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অর্থ ব্যবহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের নামে, বেনামি নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।

উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ বলে গণ্য হবেন।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram