

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ।।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের নয়াবাড়িতে স্থানীয় আমন ধানের জাত সংরক্ষণ, মূল্যায়ন এবং কৃষকদের মধ্যে বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময়ে আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (৮ নভেম্বর) নয়াবাড়ি কৃষক সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের (BARCIK) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ মাঠ দিবসে সিংগাইর, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ সদর ও ঘিওর উপজেলা থেকে অর্ধশতাধিক কৃষক-কৃষাণি অংশগ্রহণ করেন।
কৃষক ইব্রাহিম মিয়ার পরিচালনায় বাস্তবায়িত আমন মৌসুমের প্রায়োগিক ধানজাত গবেষণা প্লটে ১৫টি স্থানীয় জাতের ধান চাষ করা হয়। মাঠ দিবসে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণিরা সরেজমিনে গবেষণা প্লট পরিদর্শন করে ধানের বৃদ্ধি, সম্ভাব্য ফলন, রোগবালাইয়ের আক্রমণ, গাছের গঠন ও শীষের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন। পর্যবেক্ষণ শেষে ৩৭ জন কৃষক-কৃষাণি সাগরভাসা, মুক্তাশ্বর, পুরপুরি, শামুকভাঙা, কটকতারা, হলদেপাটা ও লালপুরিসহ সাতটি স্থানীয় জাতের ধান পছন্দ করেন। তাঁদের মতে, এসব জাতের উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হয়েছে এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম দেখা গেছে। পাশাপাশি ধানগাছের গঠন ও ধানের আকৃতি আকর্ষণীয়; দানাগুলো অতিরিক্ত মোটা কিংবা চিকন নয়।
দুই পর্বে মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্বে কৃষক গবেষণা প্লট পরিদর্শন এবং দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা ও পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। কৃষক গবেষক মো. ইব্রাহিম মিয়ার সভাপতিত্বে এবং বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শিমুল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কৃষক হযরত আলী, কৃষাণি আসমা আক্তার, মনোয়ারা বেগম ও কমলা বেগম, শহর আলী, আব্দুল বাতেন, সানোয়ার হোসেন, আইরিন আক্তার এবং বারসিকের কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান, গাজী শাহাদাৎ হোসেন, বিউটি সরকার, হুমায়ুন কবীর, আছিয়া আক্তার, রিনা আক্তার, ময়নাল হক ও ফরিদা আক্তার প্রমুখ।
আলোচনায় কৃষক-কৃষাণিরা স্থানীয় ধানের জাতগুলোর বৈশিষ্ট্য, উৎপাদন সক্ষমতা এবং স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাঁরা স্থানীয় জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণ, নিজস্ব উদ্যোগে বীজ সংরক্ষণ এবং কৃষকদের মধ্যে পারস্পরিক বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে কৃষির বৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মাঠ দিবসের মাধ্যমে স্থানীয় আমন ধানের বিভিন্ন জাতের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষক পর্যায়ে নিজস্ব উদ্যোগে ধান গবেষণা, স্থানীয় বীজের মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিজ্ঞান ও বীজসম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি কৃষিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
