

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি।।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বামী—স্ত্রী দুজন সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ৪ নভেম্বর রাত আটটার দিকে উপজেলার পশ্চিম রাঘবপুর (ভুতমারা বটেরতল মাঝিপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিপন চন্দ্র দাস ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনের বিরুদ্ধে সাঘাটা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, টাকা-পয়সার লেনদেনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রিপন চন্দ্র দাসের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ঘটনার দিন নীলাতন চন্দ্র দাস, মিঠু চন্দ্র দাস, জোসনা রানী, পলি রানীসহ ১০-১২ জন তাঁর বাড়ির উঠানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা গালিগালাজ করেন। রিপন চন্দ্র দাস প্রতিবাদ করলে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় রিপন চন্দ্র দাসের মাথা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রনিতা রানী ও ভাতিজা বিজয় চন্দ্র দাসকেও মারধর করা হয়। এতে রনিতা রানীর বাম হাতে গুরুতর আঘাত লাগে।
এ সময় রনিতা রানীর গলায় থাকা প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং ঘরের স্টিলের বাক্স থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে রিপন চন্দ্র দাস ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা থানায় এজাহার দেওয়া কথা জানতে পেরে পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেন, ‘এজাহার পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
