

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।
লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি অসাধু চক্র অতিরিক্ত মুনাফা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহরসহ চন্দ্রগঞ্জ, রামগঞ্জ, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলপিজির খুচরা বাজারে নির্ধারিত মূল্যের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
গত মাসেও ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা বেড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। শুক্রবার জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরের উত্তর বাজার ও চকবাজার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার, পোদ্দার বাজার, রায়পুরের প্রধান সড়ক, হায়দরগঞ্জ, মোল্লারহাট, খাসেরহাট, রামগঞ্জের সোনাপুর ও পানপাড়া, কমলনগরের হাজিরহাট ও করুণানগর এবং রামগতির আলেকজান্ডারসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। একই সঙ্গে এলপিজিনির্ভর হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। লক্ষ্মীপুর সদর ও রায়পুরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি পরিবেশক ও বিভিন্ন গোডাউনে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার মজুত থাকার পরও খুচরা বাজারে সংকট দেখানো হচ্ছে। তাদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত মুনাফার জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হবে। রায়পুর নতুন বাজার ও রামগঞ্জ বাজারের কয়েকজন বিক্রেতা বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি না। পাইকারি পর্যায় থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।” এদিকে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার।
তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করা হবে। অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোক্তাদের দাবি, শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। এলপিজির সরবরাহব্যবস্থা, পাইকারি পরিবেশক ও মজুতদারদেরও নজরদারির আওতায় এনে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা চান তারা।
