

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫শ থেকে ৭শ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪ শ থেকে ১৫শ টাকায়। যাহা গত সপ্তাহ ছিল ২ হাজার টাকার বেশি। দীর্ঘদিন পর জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় আবারো সরগরম হয়ে উঠছে মাছঘাটগুলো। ফলে জেলে পল্লী ও মাছঘাটে ব্যস্ত সময় পার করছে জেলেরা। জালে ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি জেলে ও আড়ৎদাররা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবী, গত কয়েকদিনের তুলনায় সাগরের পাশাপাশি মেঘনায় ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সামনে আরো বাড়ার আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ কিলোমিটার ইলিশের আভয়শ্রম। এইখানে জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার জেলে মেঘনায় ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার কথা। কিন্তু সে পরিমান মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। দীর্ঘদিন পর গত কয়েকদিন ধরে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ায় ব্যস্ত মৎস্য পল্লীগুলো। তবে মাছের আকার ছোট। গত সপ্তাহের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় কমছে দামও। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ছিল ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। এখন সেটা ৭শ টাকা কমে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে প্রকারভেদে প্রতি কেজি মাছের দাম কমেছে গড়ে ৭শ টাকা। এদিকে সাগরের ইলিশে সামলাতে হচ্ছে ইলিশের চাহিদা। লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৩০টি মাছঘাটে মাছের সরবরাহ বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে ও আড়ৎদাররা। গত কয়েকদিন ধরে মাছের সরবরাহ বাড়ছে। মাছ পাওয়ায় খুশি জেলেরা। তবে সামনে মাছ আরো বাড়বে। জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে এমনটা আশা করেন তারা।
জেলেরা জানায়, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এই মৌসুমে প্রচুর পরিমান ইলিশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সে পরিমান মাছ কিছুটা কম। দীর্ঘদিন ধরে জেলেরা ইলিশ না পেলেও কয়েকদিন ধরে মাছ পাওয়ায় খুশি জেলেরা। এদিকে মাছের সরবরাহ বাড়ায় কমছে দামও। সপ্তাহের তুলনায় প্রতি হালি মাছের দাম কমেছে গড়ে ৭শ টাকা। এছাড়া প্রকারভেদে প্রতি হালি মাছের দাম একইভাবে কমছে। সামনে আরো দাম কমবে। পাশাপাশি মাছের সরবরাহ বাড়ার আশা করেন জেলেরা। মাছের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমছে। সামনে আরো কমে আসবে বলে আশা করেন ক্রেতারা। কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইলিশের দাম। তাই মনিটরিং করে বাজার স্থিতিশীল করার দাবী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।
এদিকে শুক্রবার সকালে মুজচৌধুরীরহাট ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়. নৌকায় করে ঘাটে মাছ নিয়ে আসছে জেলেরা। সবার চোখে-মুখে আনন্দের চিত্র। ক্রেতা-বিক্রেতার সরগমর জমে উঠছে মাছঘাট। সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঘাটে এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। গত তিনদিন আগেও এই মাছের দাম ছিল সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এর নিচে ৫শ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২ শ টাকা। ৬ ইঞ্চির নিচে যেটা জাটকা ইলিশ বলা হয়, সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ৬শ টাকা। অথচ এসব ইলিশ সপ্তাহখানেক আগে ১২শ থেকে ১৭শ টাকা বিক্রি হয়।
মতিরহাটের লিটন মাঝি বলেন, নদীতে মাছ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন নদীর পাড়ে অলস সময় পার করছি। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। ফলে ঘাটে মাছ বিক্রি করে আবারো নদীতে মাছ শিকারে নামতে হচ্ছে। এইভাবে মাছ ফেলে আর কোন কষ্ট থাকবেনা। ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি।
এদিকে ক্রেতা মো. তুষার ইসলাম ও সালামত উল্যাহ বলেন, মাছের সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমছে। সামনে আরো কমে আসবে বলে আশা করেন ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, ভারতে মাছ বিক্রি করায় তার প্রভাব পড়েছে প্রত্যেকটি ঘাটে। প্রকারভেদে এক কেজি ইলিশের হালির দাম কমছে গড়ে ৭শ টাকা। পাশাপাশি সিন্ডিকেটের কারনে ঘাটে মাছের দাম বেড়ে যায়। কোন তদারকি না থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে ইলিশের দাম। তাই মনিটরিং করে বাজার স্থিতিশীল করার দাবী ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।
জেলা মৎস্য অফিসের সিনিয়র পরিচালক মো. লুৎফুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিনের তুলনায় সাগরের পাশাপাশি মেঘনায় ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সামনে আরো বাড়ার আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা। এছাড়া মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২২দিনের জন্য মাছ ধরা নিষেদ্ধজ্ঞা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এসময় অভিযান সফল করতে কাজ করছে প্রশাসন।
