

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মরিয়ম নেছার বিরুদ্ধে শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব শাহনাজ আক্তারের 'বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দের কথা বলে ঘুষ নেওয়া'র আনীত অভিযোগটি মিথ্যা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কামারপুকুর ক্লাস্টারের অন্যান্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ।
সম্প্রতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর শিক্ষকবৃন্দের যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদ স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়। প্রতিবাদপত্রে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৪ ও ২০২৬-এ পর পর দুইবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে নির্বাচিত কর্মকর্তা জনাব মরিয়ম নেছা। তাঁর সততা, কার্যদক্ষতা, সুনাম ও পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। কোনো সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অসত্য অভিযোগ আনায় প্রশাসনিক পরিবেশ ও শিক্ষকদের পারস্পরিক আস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষকরা আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব শাহনাজ আক্তার ২০০৬ সালে চাকরিতে যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫টি বিদ্যালয় (লক্ষণপুর চড়কপাড়া, কামারপুকুর, ময়দানপুর, ডাঙ্গী ও শিশু মঙ্গল) পরিবর্তন করেছেন। তিনি কখনোই কোনো বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি এবং শ্রেণি পাঠদানসহ বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মকাণ্ডে উদাসীন থাকেন। বদলিকৃত স্থানগুলোতে সহকর্মী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মরিয়ম নেছাকে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা অভিযোগের হয়রানি থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সমাজ। স্মারকলিপির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ (ইউএনও) বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, গত ০৮/০৮/২০২৬ খ্রি. তারিখে শিশু মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব মোছাঃ জাহানাহ্ বেগম উক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ছবি ও ভিডিও ধারণ করে বিভিন্ন স্থানে অপপ্রচার চালানোসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ এনে সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য ৩ জন শিক্ষক, এলাকাবাসী, জমিদাতা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিদ্যালয় একটি পবিত্র স্থান। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অদক্ষতা ও অসদাচরণের কারণে সেখানে সব সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করে, যা পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশের চরম অন্তরায়। এ কারণে উক্ত ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে দ্রুত বিদ্যালয় থেকে অন্যত্র সংযুক্তি বা বদলির দাবি জানিয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
