

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ:
রাজধানীর বাংলামোটরস্থ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের একটি অডিটোরিয়ামে গত শুক্রবার (৫ জুন ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লেখক, লোকগবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন। এরপর কবি ও সংগ্রাহক বঙ্গ রাখালের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং পরামর্শ প্রদান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে আলোচনা করেন আব্দুল্লাহ আল আমিন, শিকদার ওয়ালিউজ্জামান, কমল হাসান, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ জাহিদ হাসান, মোহাইমিনুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মো. মসিউর রহমান, সুধন্য মণ্ডল, আবুল বাসার তালুকদার, আলী প্রয়াস, আবীর আকাশ, জাহিদ হোসেন বাবু, সরকার হুমায়ুন ও যাহিদ সুবহান।
পরবর্তীতে পার্থ তালুকদারের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন উপদেষ্টা সদস্য ড. বিএম রেজাউল করিম, নজমুল হেলাল, চন্দনকৃষ্ণ পাল, ম. পানাউল্যাহ, সৈয়দ রবিউল আলম, রাখাল বিশ্বাস ও অর্জুন বিশ্বাসসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা তাদের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রমের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। কক্সবাজার, রংপুর, জয়পুরহাট, লক্ষ্মীপুর, ঝিনাইদহ, ময়মনসিংহ, মেহেরপুর, পাবনা, সিলেট, চুয়াডাঙ্গা, সুনামগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম, মাগুরা, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ ও নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা মতামত ও পরামর্শ দেন এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেন। তারা জানান, সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
দ্বিতীয় পর্বে ড. অসীম সাহার সঞ্চালনায় বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদ পত্রিকার ভলিউম–১ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি শামসুল আরেফীন ও সুমন বণিক। বার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সংক্রান্ত পরবর্তী রূপরেখা উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার এবং সমাপনী বক্তব্য দেন সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন।
সবশেষে সংগঠনের উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান শিল্পী অর্জুন বিশ্বাস সংগীত পরিবেশন করেন, যার মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।
