

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি খোঁড়া হয়েছে চারটি কবর। একই পরিবারের চার সদস্যকে একসঙ্গে দাফনের প্রস্তুতি ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে হৃদয়বিদারক পরিবেশ। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি এলাকাবাসী।
স্থানীয় চা দোকানি নূর হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “একসঙ্গে কবর দেওয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু নিজের চোখে কখনো দেখিনি। এক পরিবারের চারজন—এটা আমাদের গ্রামের জন্য অবিশ্বাস্য এক ট্র্যাজেডি।
” জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে বুড়িচং উপজেলা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগামী একটি বাসের ধাক্কায় একটি প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হন। নিহতরা হলেন—মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী নিলুফা আফরোজ ঝর্ণা, মেয়ে লাবিবা এবং ছেলে সাহেদ আশরাফ। তাদের সঙ্গে থাকা ১২ বছর বয়সী আবরার অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও পরিবারের সবাইকে হারিয়ে সে এখনো বাকরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর গ্রামের বশা হাজী পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হবে। একসঙ্গে চারটি কবরের এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। স্বজনদের আহাজারি আর গ্রামবাসীর নীরব চোখের জলে তিতারকান্দি আজ যেন শোকে মুহ্যমান।
