

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে এসে ইতালি প্রবাসী পরিবারের এক তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১ আগস্ট দুপুরে কয়েকজন আত্মীয় ইতালি প্রবাসী আবু তারেক মোল্লার বাড়িতে দাওয়াতে আসেন। খাবার শেষে তারা তারেক মোল্লা ও তার স্ত্রীকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সুযোগে বসতঘরের আলমারিতে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
একই সময়ে তার মেয়ে জান্নাত মোল্লা (১৮)কে কৌশলে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় অপহরণ করে নিয়ে যায়। মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের তল্লাশি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বাবা আবু তারেক মোল্লা। এ ঘটনায় ১ অক্টোবর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, লক্ষ্মীপুর পিটিশন নং-২৯/২৬ দায়ের করা হয়েছে। আবু তারেক মোল্লা চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন দেওপাড়া এলাকার কড়িম উদ্দিন মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা।
এসময় মেয়ের ইতালির পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, পারমেসো ডি সোজর্নো , কোডিচে ফিসকালে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এসব নথি না থাকায় তার স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং ইতালিতে ফেরার প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পরিবার। গত ২২ জুলাই তিনি বাংলাদেশে আসেন। দেশে আসার পর আত্মীয়তার সূত্রে অভিযুক্তদের বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া হয়। আর সেই দাওয়াতের সুযোগেই পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা।
অভিযুক্ত ফরিদ হোসেন ফাহাদ(২৫) নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের জংলী মনোরাশপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে। ছেলে এবং মেয়ে আপন খালাতো ভাই বোন। স্থানীয়ভাবে জানাযায় ছেলে এবং তার বাবা-মায়ের যোগসাজশে অজ্ঞাত স্থানে মেয়েকে লুকিয়ে রেখেছে। অপহরণকৃত জান্নাত মোল্লার পিতা আবু তারেক মোল্লা বলেন, “আমরা ইতালি থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসছি।
এক জায়গায় আমার মেয়ের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা চলতেছে। এরই মাঝে ফরিদ আমাদের রুমে আটকে রেখে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ আমার মেয়েকে জোর করে অপরহণ করে নিয়ে যায়। আমি অনেকভাবে চেষ্টা করছি আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে, কিন্তু ফরিদ আমাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে আমি কোন আইনি ব্যবস্থা নিলে আমার মেয়ে মেরে ফেলবে এবং আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি এবং আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। উপয়ান্ত না পেয়ে আমি আদালতে আমার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য একটি আবেদন করি।”
