

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সর্বোচ্চ সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশসেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্বাচিত হয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ আবেদন নিষ্পত্তির স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এ অর্জনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মহল থেকে ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
এ অর্জনে লক্ষ্মীপুর জেলা কালেক্টরেট কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে সদর উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি, স্বচ্ছতা এবং জনসেবার প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর অধীনস্থ হয়ে কাজ করতে পারাকে তারা গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কালেক্টরেট কর্মচারী কল্যাণ সমিতির অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, “দেশসেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা স্যারকে আন্তরিক অভিনন্দন। আপনার অধীনস্থ হয়ে আমরা গর্বিত। জনসেবায় আপনার এই অর্জন লক্ষ্মীপুরের প্রশাসনিক অঙ্গনের জন্যও গর্বের।”
এদিকে ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার এ অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট এস এম আওলাদ হোসেন। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, “জনসেবায় দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জন অত্যন্ত গৌরবের। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ আবেদন নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর এই অর্জনে লক্ষ্মীপুরবাসী গর্বিত।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের জনবান্ধব কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে—এটাই প্রত্যাশা। তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য ও কর্মময় জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করছি।”
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের পরিচয়, বয়স ও পারিবারিক তথ্যের নির্ভরযোগ্য সরকারি রেকর্ড তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সম্পত্তি, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণেও জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে নির্ভুল ও সময়মতো নিবন্ধন নিশ্চিত করা জনসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমানো এবং নিবন্ধন কার্যক্রমে প্রশাসনিক তদারকি বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এ স্বীকৃতি শুধু উপজেলা প্রশাসনের একক অর্জন নয়; ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিবন্ধন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রতি বছর ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালনের মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাগরিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে।
ক্যাথোয়াইপ্রু মারমার এ স্বীকৃতি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের জনসেবা কার্যক্রমে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ অর্জন ভবিষ্যতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও জনবান্ধব করার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে উৎসাহিত করবে।
