

ইসলাম ডেস্ক।।
মানবজাতির কল্যাণ ও সুস্থ বিবেক রক্ষায় ইসলামে মাদককে সম্পূর্ণ হারাম (নিষিদ্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মাদকের ভয়াবহ কুফল এবং এ সংক্রান্ত ঐশী নির্দেশনা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
আল্লাহ তাআলা মাদককে চরম অপবিত্র এবং শয়তানের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, "মদ (মাদকদ্রব্য) ও জুয়া—এসবই হচ্ছে শয়তানের কাজ, অপবিত্র বস্তু। অতএব, তোমরা এগুলো বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৯০)
মাদক মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, "শয়তান তো এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হোক এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিরত রাখুক।" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৯১)
মাদক মানুষের বুদ্ধি ও নৈতিকতা লোপ করে। পবিত্র কুরআনে এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে, "এ দুটোর (মদ ও জুয়া) মধ্যে রয়েছে মহাপাপ... এবং এ দুটোর পাপ ও ক্ষতি এদের উপকার অপেক্ষা অনেক বড়।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২১৯)
মাদক সেবনের ফলে মানুষের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তা মূলত নিজেকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। এ প্রসঙ্গে কুরআনের সাধারণ নির্দেশ হলো, "তোমরা নিজেদের হাত দ্বারা নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না।" (সূরা আল-বাকারাহ: ১৯৫)
পবিত্র কুরআনের এই স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা প্রমাণ করে যে, মাদক সমাজ ও মানবজীবনের জন্য এক চরম অভিশাপ। তাই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে সমাজ থেকে মাদকের মূলোৎপাটন করা আমাদের প্রত্যেকের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব।
