

এম. ওমর ফারুক সৈয়দপুর, নীলফামারী।।
ঈদের মতো পূজার ছুটিতেও যাত্রীসেবা মান বৃদ্ধিতে শারদীয় দুর্গোৎসবে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৩৬টি রেলকোচ ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
ঈদের মতো পূজার ছুটিতেও যাত্রীসেবা দিতে পরিবহন খাতকে চরম হিমশিম খেতে হয়। তাই এবার পূজার ছুটিও অনেক বেশি। ছুটির দিনগুলোতে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়বেন অনেকেই। যাত্রীচাপ মোকাবিলার বিষয়টি মাথায় রেখে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর কারখানায় ব্রডগেজ (বড়) লাইনের ৩১টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। মাত্র ১৩ কর্মদিবসে কোচগুলোর ভারী মেরামত (ওভারহোলিং) করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ (স্নিগ্ধা), দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিন কোচ এবং বাকি ১৫টি শোভন চেয়ার কোচ।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ছয়টি মিটারগেজ কোচও মেরামত করা হয়েছে কারখানাটিতে।
কারখানাটিতে তীব্র জনবলসংকট রয়েছে। এর ২৯টি উপকারখানায় (শপ) ২ হাজার ৮৫৯ জন জনবলের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৬৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী। এর বাইরে ৪৯২ জন অস্থায়ী শ্রমিক কারখানাটিতে কাজ করেন। বাজেট স্বল্পতা ও লোকবল সংকটের কারণে কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজস্ব খাত থেকে পূজার কোচ মেরামতের অর্থের সংস্থান হয় বলে জানা যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনেও শ্রমিকরা কোচ মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারখানার ক্যারেজ শপে চলছিল কোচ মেরামতের কাজ।
ওই শপের ইনচার্জ ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই) মোমিনুল ইসলাম জানান, পূজায় যাত্রীসেবা দিতে তারা ৪ অক্টোবর থেকে উৎপাদন শুরু করেন। আগামী ১৮ অক্টোবর তাদের কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে অধিকাংশ কোচ পশ্চিমাঞ্চল রেলের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব কোচ দিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। ফলে প্রতিদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ২৫ হাজার যাত্রী রেলসেবা পাবেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির উৎসব। পূজার ছুটিতে যাত্রীরা নির্বিঘেœ রেলসেবা পাবেন, এটাই তাদের কাছে আনন্দের বিষয়। কাজেই যাত্রীসেবার কথা মাথায় রেখে শ্রমিক-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে কোচ হস্থান্তর করতে পারছেন, এটিই তাদের বড় অর্জন।
