

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক:
আধুনিক সময়ে মসজিদ নির্মাণে বাহ্যিক চাকচিক্য ও জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার এক ধরণের প্রতিযোগিতা দেখা যায়। কোন মসজিদের মিনার কত উঁচু কিংবা কারুকাজ কত দামি—তা নিয়ে চলে আলোচনা। কিন্তু পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে মসজিদের এই বাহ্যিক সজ্জার আসল বিধান কী?
পবিত্র কোরআনে মসজিদকে দামি জিনিসপত্র দিয়ে সাজানোর চেয়ে ইবাদতের মাধ্যমে তা 'আবাদ' বা সার্থকতা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সূরা আত-তাওবার ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে..."
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এখানে 'আবাদ' করার অর্থ হলো—মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়, জিকির ও দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখা; বিলাসবহুল ভবন তৈরি করা নয়। এছাড়া কোরআনে অপ্রয়োজনীয় খরচকে অপচয় আখ্যা দিয়ে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মসজিদের অতিরিক্ত সাজসজ্জাকে কিয়ামতের লক্ষণ এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়ের অন্ধ অনুকরণ বলে সতর্ক করেছেন।
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, "ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতদিন না মানুষ মসজিদ নিয়ে একে অপরের সাথে গৌরব বা অহংকার করবে (কার মসজিদ কত সুন্দর)" (আবু দাউদ: ৪৪৯)।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, "আমি মসজিদসমূহকে জাঁকজমকপূর্ণ ও উঁচু প্রাসাদসম বানানোর আদেশ পাইনি" (আবু দাউদ: ৪৪৮)।
মসজিদের দেয়ালে বা মেহরাবে অতিরিক্ত কারুকাজ, রঙিন লাইটিং বা ক্যালিগ্রাফি থাকলে মুসল্লিদের নামাজের মনোযোগ (খুশু) নষ্ট হয়। এই কারণে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.) মসজিদে নববীর সংস্কারের সময় কারিগরদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা যেন দেয়ালে লাল বা হলুদ রঙ না করে, যা মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দেয়।
মসজিদের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, এসি বা ফ্যানের ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য আরামদায়ক শান্ত পরিবেশ তৈরি করা।
সামাজিক অহংকার প্রকাশের উদ্দেশ্যে করা অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ কারুকাজ, উৎসবের নামে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা (যেমন মরিচ বাতি বা ডিস্কো লাইট) এবং নামাজের সামনে মনোযোগ নষ্টকারী দৃশ্য রাখা।
মসজিদ মূলত ইবাদত, বিনম্রতা ও আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রস্থল; কোনো প্রদর্শনী বা আভিজাত্য প্রকাশের জায়গা নয়। তাই বাহ্যিক চাকচিক্যের পেছনে অন্ধভাবে না ছুটে, মসজিদকে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মুখরিত করার দিকেই আমাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
