

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুর জেলার ছয় থানায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। পাঁচ ঘণ্টার এ অভিযানে ১৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক সবার বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে রয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধ প্রবণতা রয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানকে অভিযানের আওতায় নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী জেলা পুলিশ,গোয়েন্দা ও থানা পুলিশের যৌথভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারন মানুষ। বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের সামনে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগও কম নয়। প্রায়ই কিশোর গ্যাংদের মধ্যে মারামারিসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করে পুলিশ। দ্বিতীয় দিনের এই অভিযানে ১৮২জনকে আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই চলছে। এ নিয়ে দুইদিনের অভিযানে ৪৪৮জনকে আট করা হয়। এছাড়া অভিযানের শুরুতে ২৬৬জনকে আটক করা হয়েছে। পরে যাচাই-বাচেই শেষে ২১৫জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। অন্য ৫১জনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৬৪ জন, চন্দ্রগঞ্জ থানায় ২১ জন, রায়পুর থানায় ২০ জন, রামগঞ্জ থানায় ২৪ জন, রামগতি থানায় ১৩ জন, কমলনগর থানায় ১৭ জন এবং ডিবি পুলিশের অভিযানে ২৩ জনসহ ১৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সদর ওরায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদ পারভেজ ও মো. নিজাম উদ্দন ভূইয়া জানান. উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি আটক কিশোরদের তথ্য-যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
