

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামে বলেশ্বর নদের চরে কচুরিপানা খাওয়ার সময় একটি গাভীর ওপর কুমিরের হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সোমবার দুপুরে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামে বলেশ্বর নদসংলগ্ন চরাঞ্চলে এক ভয়াবহ কুমিরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা পুতুল বেগমের চারটি গরু নদীর চরে জমে থাকা কচুরিপানা খাচ্ছিল। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে নদী থেকে উঠে আসা একটি কুমির অতর্কিতে একটি গাভীর পেছনের অংশে কামড় বসিয়ে সেটিকে পানির দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। জনশূন্য চরে এ ধরনের আকস্মিক হামলার বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে কুমিরটিকে ধাওয়া করলে সেটি গাভীটিকে ছেড়ে দিয়ে পুনরায় নদীতে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর থেকেই নদীতীরবর্তী জনপদগুলোতে কুমিরের আক্রমণ নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী গাভীর মালিক পুতুল বেগম জানান, তার জীবিকার প্রধান উৎস এই গবাদি পশুগুলো প্রতিদিনের মতোই চরে ঘাস ও কচুরিপানা খাচ্ছিল। কুমিরের আক্রমণের শিকার গাভীটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে, যা প্রাণীটির স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতাকে ব্যাহত করছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় কুমিরের অবাধ বিচরণ এবং খাবারের সন্ধানে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসার বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবাদি পশুর ওপর এই হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কুমিরের আনাগোনা বেড়েছে এবং এর ফলে চরাঞ্চলে গবাদি পশু চরানো বা মানুষের স্বাভাবিক চলাচল চরম অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।
ঘটনার পরপরই শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ আহত গাভীটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই বনরক্ষীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং কুমিরটির গতিবিধি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত টহল এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় মাঝেমধ্যেই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে বলেশ্বর নদের তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে গবাদি পশু হারিয়ে যাওয়া এবং প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকট হয়েছে। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় খামারিরা তাদের গবাদি পশু চরাতে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন, যা প্রান্তিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বন্যপ্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা প্রচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘমেয়াদী সচেতনতা এবং নজরদারিই এখন একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
