ঢাকা
প্রকাশিত : September 28, 2026
আপডেট: September 28, 2026
প্রকাশিত : September 28, 2026

বংশালে মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা।। 

রাজধানীর বংশালে মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের শিশু জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। এর ছয় দিন পর গতকাল রবিবার তাকে উদ্ধার করে বংশাল থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, জিসান বংশালের সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদ্রাসার ছাত্র। গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরদিন বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জিসানের বাবা সাজু মিয়া।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে জিসানকে মাদ্রাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর সে কোন দিকে গেছে, সে বিষয়ে আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

অপহরণের কথা বলে টাকা দাবি

জিসানের নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাবার মুঠোফোনে অপরিচিত ব্যক্তিরা ফোন করেন। তারা জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

পরে দর-কষাকষির পর ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন সাজু মিয়া। ফোনকারীদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে তিনি ওই টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর তাকে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর জিসানকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে আবার ফোন করে আরও টাকা দাবি করা হয়।

বংশাল থানা পুলিশ বিকাশ নম্বরটি যাচাই করে জানতে পারে, সেটি গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট বিকাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

কীভাবে মাদ্রাসা থেকে বের হয়েছিল জিসান

পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসার এক ছাত্রের মুঠোফোন ও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা জিসান নিয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে জিসান তা অস্বীকার করলেও পরে তার বিছানার বালিশের নিচ থেকে ওই মুঠোফোন পাওয়া যায়।

পুলিশের ধারণা, মুঠোফোন নেওয়ার অভিযোগে ভয় পেয়ে জিসান মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে জিসান সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যায়। সেখান থেকে একটি লঞ্চে করে চাঁদপুরে চলে যায়। সেখানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার সৈকত নামের এক অটোমেকানিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

একই দিন সৈকতের সঙ্গে জিসান আবার ঢাকায় ফিরে আসে। এরপর সে সৈকতের গ্যারেজে কাজ করছিল এবং তার বাসায় থাকছিল।

যেভাবে মিলল জিসানের সন্ধান

পুলিশ জানায়, সৈকতের কাছে জিসান নিজের পরিচয় দিয়ে বলেছিল, তার বাবা মারা গেছেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। পরে তার কথাবার্তায় সৈকতের সন্দেহ হয়। তখন তিনি জিসানের মুখস্থ থাকা এক খালার মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম গিয়ে জিসানকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে জিসানের বাবা সাজু মিয়ার অভিযোগ, তাকে ফোন করে টাকা দাবি করা ব্যক্তিরা এখনো তার মুঠোফোনে কল করে টাকা চাচ্ছেন।

বংশাল থানা পুলিশ বলছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘মুক্তিপণ দেওয়ার পরও শিশুকে ছাড়েনি অপহরণকারীরা, পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়। বংশাল ও গাজীপুরের শ্রীপুর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় জিসানকে উদ্ধার করে তার অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram