

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
কনের বাড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে চলছিল গায়ে হলুদ। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বরও। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। গায়ে হলুদ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সদ্য বিবাহিত বর মাহিন (১৪-১৫)। এতে দুই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) কনের বাড়িতে বৌ-ভাতের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় বেড়ির মাথা-মোল্লারহাট সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাহিন রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আর কনে মিফতাহ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বর-কনে দুজনেরই বয়স ১৪-১৫ বছর হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দুই দিন আগে চুপিসারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করেন।
আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে শনিবার রাতে কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। সেখানে বরও অংশ নেন।
গায়ে হলুদ শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বকুলতলা এলাকায় মাহিন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে কনের বাড়িতে বৌ-ভাতের জন্য করা আয়োজন এখন পড়ে আছে এলোমেলো অবস্থায়। রান্নার হাড়ি-পাতিল পড়ে রয়েছে, খালি পড়ে আছে বরের বসার স্থান।
অতিথিদের বসানোর জন্য আনা প্লাস্টিকের চেয়ারগুলোও আর বিছানো হয়নি। যে বাড়িতে রোববার আনন্দ-উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চলছে শোকের মাতম।
নিহত মাহিনের এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, “গায়ে হলুদ থেকে ফেরার পথে ছেলেটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। তার বয়সও কম ছিল। দুই দিন আগেই তার বিয়ে হয়েছিল। এরপর আনুষ্ঠানিকতার জন্য কনের বাড়িতে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার পথেই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।”
কনের মামা জাহেদুন সোহেল বলেন, “শনিবার রাতে আমার ভাগনির গায়ে হলুদ ছিল। সেখানে বরও এসেছিল। কিন্তু রাতে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা যায়।
বর-কনের বয়স ১৪-১৫ বছর। এ কারণে দুই দিন আগেই তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রোববার বৌ-ভাতের আয়োজন ছিল। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই সব আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।”
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তবে মরদেহ কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্যও তার জানা নেই।
নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যে বিয়ের আয়োজন শুরু হয়েছিল, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তা পরিণত হয়েছে এক পরিবারের সন্তান হারানোর কান্না আর অন্য পরিবারের সদ্য বিবাহিত কনের স্বামী হারানোর বেদনায়। কনের বাড়িতে যেখানে আজ বৌ-ভাতের আনন্দ থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই নীরবতা আর শোক।
