ঢাকা
২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৩:৫১
প্রকাশিত : আগস্ট ২৩, ২০২৬
আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০২৬
প্রকাশিত : আগস্ট ২৩, ২০২৬

বাউফলে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ব্যাস্ত কৃষকরা

মো. ফোরকান , বাউফল, পটুয়াখালী:

বর্ষায় মাঠে জমেছে পর্যাপ্ত পানি। কাদামাটিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে কৃষিজমি। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় পুরোদমে চলছে আমন মৌসুমের জমি প্রস্তুতের কাজ। 

পটুয়াখালীর বাউফলে চলতি আমন মৌসুমে ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উপজেলা কৃষি অফিস।

১৫টি ইউনিয়নের মাঠজুড়ে ট্রাক্টরের গর্জন, কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম আর কৃষকদের সহযোগিতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কেউ জমি চাষ দিচ্ছেন, কেউ মই দিয়ে সমান করছেন, আবার কেউ আমনের চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এ বছর আমনের আবাদ নিয়ে তারা আশাবাদী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চারা রোপণ শেষ হবে বলে জানান তারা।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কৃষকদের কর্মব্যস্ততা, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। কেউ জমি চাষ করছেন, কেউ ব্যস্ত আগাছা পরিষ্কার ও জমি প্রস্তুতের কাজে। 

চলতি মৌসুমে দেশি জাতের ধানের পাশাপাশি ব্রিধান-৫২, ৭৮, ৯৭ ও ১০৩, বিআর-২৩ এবং বিনা ধান-৭, ১৭ ও ২৬ জাতের ধান চাষ করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি স্থানীয় উচ্চফলনশীল উফশি জাতের ধান, লাল মোটা, সাদা মোটা ও কাজলশাইল ধানেরও আবাদ করা হচ্ছে।

তবে শ্রমিক সংকট কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই চারা রোপণের কাজ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে । এতে একদিকে যেমন সময় বেশি লাগছে, অন্যদিকে শ্রম ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের কৃষক আবু জয়নাল ও মোসারেফ হোসেন বলেন, দুই জৈষ্ঠ জমি রোপণ করতে দুইজন শ্রমিকের তিন বেলা খাবারসহ মজুরি দিতে হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। দুইজন শ্রমিক মিলে দিনে দেড় থেকে কখনো দুই জৈষ্ঠ পর্যন্ত জমি রোপণ করতে পারেন।

 বগা ইউনিয়নের কৃষক আঃ জালাল, রাজ্জাক ও শহিদ বলেন, এহন কৃষিকাজে অনেক পরিবর্তন আইছে। আগের তুলনায় ক্ষ্যাত (জমি) প্রস্তুত করতে সময় কম লাগে। আমরা আশা করি, ঠিক সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করতে পারমু। সময়মতো চারা লাগাইতে পারলে ধানও ঠিক সময়ে কাটতে পারমু। তাই ভালো ফলনের আশায় আছি।

গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইব্রাহিম ও বারেক হাওলাদার বলেছেন, আমন মৌসুমকে কেন্দ্র করে শুধু কৃষকরাই নন, কৃষিশ্রমিক, ট্রাক্টর ও কৃষিযন্ত্রচালক, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। ফলে মৌসুমজুড়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং স্থানীয় বাজারেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ে।

কৃষকদের আশা, মৌসুমের বাকি সময় আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে। এতে মাঠ ভরে উঠবে সোনালি ধানে, কৃষকদের পরিশ্রম সার্থক হবে এবং তাদের মুখে ফিরবে হাসি। ভালো ফলনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিলন জানান, চলতি আমন মৌসুমে বাউফল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে মোট ৩৫ হাজার ২০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবাদ সম্পন্ন হলে এ মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

তিনি বলেন, আমরা সরাসরি মাঠ পরিদর্শন, উঠান বৈঠক করে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছি। চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ নিশ্চিত করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন হবে বলে আমরা আশা করছি।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram