

মো. ফোরকান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
সাংবাদিক ও ডিবি পরিচয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ২০ হাজার টাকা নগদ ও ১০ হাজার টাকা পরে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রক্ষা পান ওই হিন্দু পরিবারটি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাউফল থানায় মামলা দায়ের করেছেন রতন মন্ডল নামের এক ভুক্তভোগী। মামলায় দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ-ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) উপকূলীয় প্রতিনিধি এনামুল হক এনা (৩৫) ও দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি মো. রিয়াজ (৩৭)।
মামলার এজাহার, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন বছরেরও বেশি সময় আগে প্রেমের সম্পর্কের টানে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে পালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ছেলেকে বিয়ে করে। এ নিয়ে শুরুতে দুই পরিবারের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলেও পরে এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করেননি মুসলিম পরিবারটি। মেয়েটি হিন্দু ধর্ম পালন করছে। তাঁদের সংসারে রয়েছে আট মাসের একটি কন্যা সন্তান। ওই পুরানো ঘটনাকে সামনে এনে গত রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাংবাদিক এনামুল হক, মো. রিয়াজসহ আরও পাঁচ-ছয় জন নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়ে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে যান এবং হিন্দু পরিবারের ঘরে ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মামলার বাদী রতন মন্ডললের ভাষ্য মতে এনামুল হক পুলিশ পরিচয়ে তাঁদেরকে (হিন্দু পরিবার) বলেন-মুসলিম মেয়েকে অবৈধভাবে ঘরে রেখে অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। বাঁচতে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। পরে আমরা মিনতি করে বলেছি, আমরা হিন্দু পরিবার, গরীব মানুষ, আমাদের কাছে এতো টাকা নাই। তখন সাংবাদিকরা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাড়ির অদূরে এক দোকানির কাছ থেকে ধার করে এনে এনামুলের হাতে ২০ হাজার টাকা দেই এবং পরের দিন (মঙ্গলবার) সকালে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা চলে আসেন।
এ বিষয়ে এনামুল হক এনা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) সাংবাদিক পরিচয়ে বলেন, একজন মুসলিম নারীকে হিন্দু পরিবারের এক ছেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাহ ব্যতীত তাঁদের ঘরে রেখেছে, সন্তান প্রসব করিয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনিসহ আরো তিন জন সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যান। তবে চাঁদাদাবি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবি ও চাঁদা গ্রহণের সত্যতা পাওয়ায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
