ঢাকা
২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১১:৪০
প্রকাশিত : জুলাই ২৩, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ২৩, ২০২৬

বৃষ্টির পানির নিচে গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের হাজার হাজার চাষীর স্বপ্ন আমন বীজতলা

আবু তাহের,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার চাষির আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার আমন উৎপাদন। বৃষ্টির পানির নিচে চাষির স্বপ্ন তলিয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নেয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলার ৮১টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। সবকটি উপজেলা নদীবেষ্টিত। এর মধ্য গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটায় সবমিলে প্রায় ১৬৫টি চরাঞ্চল রয়েছে। সেগুলো সামান্য বৃষ্টিতে ফসলের জমি পানির নিচে তলে যায়।

চলতি মৌসুমে জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১২০ হেক্টর জমি। এসব জমিতে ধান রোপণের জন্য সাত হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছিল। তবে টানা বৃষ্টিতে ১৩২ হেক্টর বীজতলা পানিতে ডুবে গেছে। এরমধ্যে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ হেক্টর বীজতলা। বীজতলাসহ জেলার প্রায় ৩১০ হেক্টর জমির শাকসবজি পানির নিচে রয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়। এসব আমনের চারা শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পযর্ন্ত রোপণ করা হয়। এবার তারা সময়মত বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নদ-নদীতেও পানি বেড়েছে। ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব বীজতলা পানির নিচে। জলাবদ্ধতার কারণে জেলার অনেক এলাকায় বীজতলা পুরোপরি পানির নিচে আছে।
সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের কৃষক হোসেন আলী জানান, এক নাগারে বৃষ্টির কারণেই তার আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেটিও ব্যয়বহুল ও বীজতলা তৈরী করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের হরিনাথপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল মিয়া বলেন, এ বছর প্রায় আট বিঘা জমিতে আমন চাষের পরিকল্পনা ছিল। সেজন্য তিনি প্রায় ২৫ শতাংশ জমির বীজতলা তৈরি করেন। প্রায় ২০-২২ দিনের চারা। জমিতে সার প্রয়োগ করার পরের দিন থেকে বৃষ্টি। এক সপ্তাহ ধরে চারাগুলো পানির নিচে। চারার মাথায় পচন ধরেছে।
একই গ্রামের বকুল মিয়া প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগানোর জন্য ১২ শতাংশ জমি বীজতলা করেন। সব চারা পচে নষ্ট হয়েছে। এজন্য নতুন করে বীজতলা তৈরি বা কিনে ধান রোপণের চিন্তা করছেন। এতে খরচ বাড়বে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরের কৃষক আজগর আলী বলেন, ‘ঘন ঘন বৃষ্টিতে বীজতলা ডুবে গেছে। সবগুলো চারা নষ্টের উপক্রম হয়েছে। নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য বেশি দামে বীজ কিনতে হচ্ছে। এতে আমন চাষ প্রায় ২০ দিন পিছিয়ে যাবে।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার অনেক আমন ধানের বীজতলা এখনো পানির নিচে ডুবে আছে। আমনের চারা আক্রান্ত হয়েছে। তবে বীজতলা থেকে পানি নেমে যাওয়ার পরিচর্যা করলে ক্ষতি কিছুটা কমবে। এ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা কাজ করছেন।’

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram