ঢাকা
২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ২:১০
প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ২২, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ২২, ২০২৬

গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধের ২৫টি স্থানে ধস

আবু তাহের,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
নাঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধের ওপর দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে মানুষ ও যানবাহন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় জেলা শহর রক্ষার প্রধান এই বাঁধ ঘিরে বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা জানায়, ঘাঘট নদীর ভাঙন ও বন্যা থেকে জেলা শহরকে রক্ষার জন্য বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি জেলা শহরবাসির জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। তাই বর্ষার আগে শুকনা মৌসুমে বাঁধটি মেরামত করা উচিত ছিল। তখন বাঁধটি মজবুত ও টেকসই হতো।বর্ষার সময় কাজ করলে তা স্থায়ী হয় না।
অন্যদিকে, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন স্থানের মাটি ধসে গেছে। জরুরিভাবে সেগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বন্যা ও ভাঙন থেকে গাইবান্ধা জেলা শহরকে রক্ষা করতে ঘাঘট নদীর ডানতীরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। গাইবান্ধা সদর উপজেলার ভেরামারা থেকে গোরহাট পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিমে বাঁধটি নিমিত হয়। বাঁধটি চলাচলের রাস্তা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও বাঁধটি টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়নি। উত্তর পাশে নদীর দিকে অনেক জায়গায় সিসি ব্লক দেওয়া হলেও দক্ষিণে (যেদিকে জেলা শহর) টেকসই কোন কাজ নেই। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই ধসে যায়।
সরেজমিনে বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, শহরের কুটিপাড়া, ডেভিড কোম্পানিপাড়া ও জুম্মাপাড়া এলাকায় বাঁধের বেহালদশা। ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধের মাটি সরে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকটি স্থানে বাঁধের নিচ থেকে মাটি কেটে ওপরে ফেলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের ওপর দিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বাঁধের বড় অংশই বালুমিশ্রিত মাটি দিয়ে নির্মিত। ফলে বৃষ্টির পানি নিচে নেমে যাওয়ার সময় বাঁধে ধীরে ধীরে বড় ফাটলে রূপ নিচ্ছে। ডেভিড কোম্পানিপাড়ার বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, বৃষ্টি হলেই বাঁধের মাটি সরে যায়। বাঁধটি ধীরে ধীরে ধসে যাচ্ছে। একটানা ভারী বৃষ্টি হলে কী হবে, সেটা নিয়েই চিন্তায় আছি।
কুটিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, বৃষ্টিতে মাটি সরে যাওয়ায় বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বাঁধের কাঁচা রাস্তা দিয়ে ট্রলি চলাচল করায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এ জন্য বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একই এলাকার চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি ক্ষয়ে গেছে। কখনো স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি। বাঁধটির অনেক জায়গা নিচু ও সরু হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় সাইকেল-মোটরসাইকেল ছাড়া ভ্যান চলাচল করতে পারে না। সময়মতো সংস্কার না করায় অনেক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু বর্ষা এলে লোক দেখানো মাটি ও বালুর বস্তা ফেলা হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে বাঁধ ধ্বসে যাচ্ছে। কিন্তু পাউবো ধসে যাওয়া স্থান মেরামতের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এদিকে ১৪ জুন দুপুরে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ক্ষতিগ্রস্ত শহররক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন। তার নির্দেশে পরদিন থেকে শুধুমাত্র শহরের ডেভিড কোম্পানিপাড়া এলাকায় বাঁধের ধসে যাওয়া অংশে কিছু বালুর বস্তা ফেলানো হয়।
জেলা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা প্রশাসক বলেন, বাঁধটি জরুরিভিত্তিতে মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাঁধের বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে।
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধের কিছু অংশে রেইনকোট ও ধস দেখা দিয়েছে। তবে চিন্তার কারণ নেই। বড় ধরনের ক্ষতি যেন না হয়, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মাটির বস্তা ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয়-সাতটি স্থানে বস্তা ফেলে ভরাট করা হয়েছে। মেরামত কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram