

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
সাঘাটায় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে গাইবান্ধার সাঘাটায় আমার সংবাদ সাঘাটা উপজেলা প্রতিনিধি ইয়ামিন নামের এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় বইছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ১১ জুলাই রাত অনুমান আটটা থেকে সাড়ে আটটার সময় উপজেলার উল্লা ভরতখালি সাংবাদিক ইয়ামিন হাসানের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইয়ামিন হাসান ভরতখালী ইউনিয়নে তাঁর কার্যালয়ে এমন হুমকির শিকার হন। এই ঘটনায় তিনি সাঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সম্প্রতি দৈনিক আমার সংবাদ-এ “সাঘাটায় মাদকের ভয়াল থাবা” এবং দৈনিক কলম যোদ্ধা ডট কম নিউজ পোর্টালে “পর্ব-১ ভাড়ায় খাটে কিশোর গ্যাং! দোকান চুরি ও মাদক বাণিজ্যের অন্ধকার জগৎ” শিরোনামে দুটি খবর প্রকাশিত হয়। সংবাদে কিশোর গ্যাংয়ের কারো নাম উল্লেখ না থাকলেও এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিরব ইসলাম সেতু, স্থানীয় শান্ত মিয়া ও রিয়াজসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জন যুবক শনিবার দিবাগত রাতে সাংবাদিক ইয়ামিনের অস্থায়ী অফিস ঘেরাও করে। তারা কার্যালয়টি অবরুদ্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাংবাদিক ইয়ামিন হাসান তাৎক্ষণিকভাবে সাঘাটা থানার ওসিকে ফোনে বিষয়টি অবগত এবং ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সহযোগিতা চান। খবর পেয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ দ্রুত সেখানে আসতে থাকলে অভিযুক্তরা ইয়ামিন হাসানকে চিৎকার করে প্রকাশ্য জনসম্মুখে হুমকি দিয়ে অটোভ্যানে করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জেলা, উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক সমাজ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই ঘটনায় সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ এবং জামায়াত নেতা মাহবুব আলম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দুষ্কৃতিকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের সকল জনপ্রতিনিধি মাদক কারবারি ও কথিত কিশোর গ্যাংদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী সাংবাদিক চরম নিরাপত্তাহীনতা শঙ্কায় রয়েছেন।
সেই সাথে এলাকাবাসী চিহ্নিত ব্যাক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
