

আবু তাহের,গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খামার পবনতাইড় গ্রামে বুধবার দুপুরে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আপন নাতির ছুরিকাঘাতে দাদি ফেরেজা বেগম (৬৬) নিহত ও দাদা আব্দুল করিম (৭১) হয়েছেন। নিহত ফেরেজা বেগম ওই গ্রামের আব্দুল করিমের স্ত্রী। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত নাতিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার দুপুরে নাতি ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি নিয়ে তার বৃদ্ধ দাদা ও দাদির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তারা দুজনই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দাদি ফেরেজা বেগমের হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং গাল ও গলায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়।
তাদের আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করেন। একই সাথে পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারী নাতিকে আটকে রেখে সাঘাটা থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্বজন ও স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ফেরেজা বেগম মারা যান। দাদা আব্দুল করিমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাতিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
