ঢাকা
১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১২:১৩
প্রকাশিত : জুন ৩০, ২০২৬
আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬
প্রকাশিত : জুন ৩০, ২০২৬

ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই : নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

স্টাফ রিপোর্টার, গাইবান্ধা:

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি গত চব্বিশ ঘণ্টায় হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা গেছে । ইতিমধ্যেই নদীর পানি বিপদসীমার ছুঁই ছুঁই অবস্থা থেকে কয়েকটি পয়েন্টে তা অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এর ফলে গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির এই দ্রুত প্রবণতা অব্যাহত থাকলে জেলাটিতে বন্যা পরিস্থিতি প্রাথমিক বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানি বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন নদী বেষ্টিত স্থানীয় চরাঞ্চলের কৃষকেরা। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করায় কৃষকদের উঠতি ফসল—বিশেষ করে পাট, তিল ও এই মৌসুমের বিভিন্ন শাকসবজির খেত তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় চাষিরা জানান, ফসল পুরোপুরি তলিয়ে গেলে শত শত কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। মাঠের ফসল ঘরে তোলার আগেই তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কাটছে তাদের রাত।

পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীর প্রবল স্রোতের কারণে বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। বিশেষ করে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ও সাঘাটা ইউনিয়নের কয়েকটি জেগে ওঠা নতুন চর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্রোতের চাপে কিছু কিছু স্থানে ইতিমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে।

​হলদিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মাসুদ বলেন,​"পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে হলদিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কালুরপাড়া, কুমারপাড়া, উত্তর দিঘলকান্দি, দক্ষিণ দিঘলকান্দি, চর হলদিয়া, কানাইপাড়া, পাতিলবাড়ি, গাড়ামারা ও সিপি গাড়ামারার কমপক্ষে দুই হাজার পরিবার দ্রুতই পানিবন্দী হয়ে পড়বে। তখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করায় নৌকা ছাড়া তাদের যাতায়াতের আর কোনো সম্বল থাকবে না।"

​তিনি আরও জানান, পানিবন্দী হওয়ার পাশাপাশি এসব এলাকার মানুষের প্রধান আয়ের উৎস পাট ও তিলসহ চরের সব ধরনের চাষাবাদকৃত ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে নদীবেষ্টিত এলাকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দূর্যোগ কমিটি সজাগ রয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি সমতলে বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

​এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরাঞ্চলের মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রয়েছে। পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধারকারী নৌকার ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই যেন শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram