ঢাকা
৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:২৯
প্রকাশিত : জুন ৩০, ২০২৬
আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬
প্রকাশিত : জুন ৩০, ২০২৬

মেডিকেল সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব, ঈদগাঁওতে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার।।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়ের করা একটি অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট (এমসি) সময়মতো না পাওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বিলম্ব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী কর্মকর্তা
এএসআই অন্তু বড়ুয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন ঈদগাঁও থানায় অনলাইনে জিডি নং-২১০ দায়ের করেন ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ এলাকার বাসিন্দা সাবেকুন নাহার নামে এক নারী। জিডিতে তিনি একই এলাকায় বসবাসকারী তার বড় বোনের মেয়ে রেসমি আক্তার, রেসমির স্বামী আয়াত উল্লাহ, বড় বোন রেহেনা আক্তার এবং দুলাভাই ছাবের আহমদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনেন।

অভিযোগটি পাওয়ার পর থানার পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। তদন্তের পূর্বানুমতির জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন পাঠানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লিখিত শারীরিক আঘাতের সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ভুক্তভোগীর মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবেদনও করা হয় যথানিয়মে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালত থেকে তদন্তের অনুমতি দ্রুত পাওয়া গেলেও রামু হাসপাতাল থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট দীর্ঘদিন পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত অনুপস্থিত থাকায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আদালতে দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই অন্তু বড়ুয়া জানান, জিডি তদন্তে বিলম্বের কারণ বাদীকে একাধিকবার জানানো হয়েছিল। প্রয়োজনে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহে সহযোগিতা করার জন্যও তাকে অনুরোধ করা হয়। অন্যথায় সরকারি প্রক্রিয়ায় হাসপাতাল থেকে মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া মাত্র অথবা তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে তা সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে তাকে অবহিত করা হয়েছিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তা অন্তুর দাবি, বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় বাদী তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাতে শুরু করেন। এতে তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে, পুলিশ জানায়, পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা অন্তু বড়ুয়া নিজ উদ্যোগে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর গত ২৭ জুন ঈদগাঁও থানার নন-এফআইআর নং-২১/২৬ আদালতে দাখিল করা হয়। ফলে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে অবহিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভাষ্য, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং অপপ্রচারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অপরদিকে একই বাদী সাবেকুন নাহারের করা ঈদগাঁও থানার এসডিআর নং-৩৪/২৬-এর আরেকটি অভিযোগ তদন্তে পুলিশ জানায়, অভিযোগটি ছিল পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে। অভিযোগে বাদী তার বাবা, মা ও বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বামীর বিদেশযাত্রা, পাওনা অর্থ এবং হুমকির বিষয় উল্লেখ করেন।

ওই অভিযোগের তদন্তভার পাওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই অন্তু বড়ুয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে পারিবারিক বিরোধটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তীতে বাদীর স্বামীও দেশে ফিরে আসেন এবং তাৎক্ষণিক বিরোধের অবসান ঘটে।

পুলিশের দাবি, উভয় ঘটনাতেই আইন ও বিধি অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করা হয়েছে। তদন্তে বিলম্বের পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল না; বরং প্রয়োজনীয় মেডিকেল নথি প্রাপ্তির অপেক্ষাই ছিল প্রধান কারণ।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram