

আবু তাহের,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগে গাইবান্ধার জাফলং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগিয়ে ভস্মীভূত করা হয়েছে বলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান রেস্টুরেন্টটির মালিক ভুক্তভোগী মানিক মিয়া।
গাইবান্ধা শহরের সরকারপাড়ার শামসুল হক দুদুর ছেলে মানিক মিয়া সংবাদ সম্মেলনে জানান, সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের ভেড়ামারা ব্রিজ সংলগ্ন বাহারবন এলাকায় রেলওয়ের জমি লিজ নিয়ে জাফলং চাইনিজ রেস্টুরেন্ট স্থাপন করেন। কিন্তু রেস্টুরেন্ট চালুর পর থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে চাঁদার দাবিতে হুমকি দিতে থাকে।
পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তিনি কয়েকবার তাদের দাবি মেনে নিলেও প্রভাবশালী চাঁদাবাজরা ক্ষান্ত হয়নি। বরং তারা বারবার চাঁদার দাবিতে হুমকি দিতে থাকে। শুধু তাই নয়, তারা রেস্টুরেন্টে মাঝে মাঝে এসে খাওয়া দাওয়া করে বিল না দিয়েই চলে যেত।
এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তারা উল্টো ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিত। পরবর্তীতে রেস্টুরেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব তার পূর্বের কর্মচারী আমির উদ্দিনকে প্রদান করেন। কিন্তু তিনিও একইভাবে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের দাবির মুখে পড়েন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই প্রভাবশালী চক্রের ইন্ধনে রেললাইনের পূর্বপাশের কিছু উচ্ছৃংখল যুবক তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা গত ২০ জুন ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ এনে রেস্টুরেন্ট ভাংচুর করার পায়তারা করতে থাকে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তারা গত ২৪ জুন সকালে রেস্টেুরেন্টে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও কর্মচারীদের মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও তারা পরিকল্পিতভাবে লোকজনকে সংঘবদ্ধ করে রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ফ্রিজ, সোফা, মাইক্রোওভেনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ ৯ লাখ টাকার মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তারাই আবার মানিক মিয়া ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার শুরু করে। এরফলে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঋণের অর্থে গড়ে তোলা একমাত্র আয়ের উৎস ধ্বংস করে দেয়ায় তারা চরম হতাশা ও অর্থনৈতিক কষ্টে দিনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী মানিক মিয়া ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রæত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিপূরণের যথাযথ ব্যবস্থা করে বিচার নিশ্চিত এবং পরিবার ও ব্যবসার নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী মানিক মিয়ার স্ত্রী আজিনুর বেগম, ভুক্তভোগী আমির উদ্দিনের স্ত্রী সাদা রাণী, ছেলে আরাফাত সিহাব ও আসিফ হাসান শিশির।
