

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
জাল সনদে চাকুরীর অভিযোগে লক্ষ্মীপুরে চারজন শিক্ষককে বেতনসহ সরকারী সকল সুবিধার টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক স্কুল ও কলেজের শনাক্তকৃত জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে গত ১৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩৭.০০.০০০০.০৮৭.৯৯.০০৩.২১ নং স্মারকের সূত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ,অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা হতে ৪৭১ জন জাল/ভূয়া সনদধারী শিক্ষকের তালিকাসহ একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।
উক্ত পত্রে ‘ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এম.পি.ও. নীতিমালা, ২০২৫ অনুসারে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রেরিত ৪৭১ ( মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন) জাল/ভূয়া সনদধারী তালিকাভুক্ত শিক্ষক – কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদানকরা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রেরিত মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন জাল/ভূয়া সনদধারী শিক্ষক – কর্মচারীদের সংযুক্ত তালিকার মধ্যে রায়পুরের কেরোয়া ইউপির লুধুয়া এম এম উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মোঃ মিজানুর রহমান, জিয়াউল হক হাইস্কুল এন্ড কলেজের (সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার) মোঃ আনোয়ার হোসেন, কমলনগর উপজেলার হাজির হাট উপকূল কলেজ, (আক্তার হোসেন, প্রভাষক কম্পিউটার) ইনডেক্স উল্লেখ নেই। প্রতিবেদনে ফেরত যোগ্য টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জাল ও রামগঞ্জ উপজেলার পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় জান্নাতুল ফেরদৌসী ( সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার) ইনডেক্স উল্লেখ্য নেই। এদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা -২০২৫ এর ১৮.১(ঙ) ধারা মোতাবেক কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবেনা তার জবাব চেয়ে দশ কর্মদিবসের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রায়পুর উপজেলার লুধুয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ( সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার) মোঃ মিজানুর রহমানকে ৩৯ লক্ষ এক হাজার ১১৫ টাকা, রামগঞ্জ উপজেলার জিয়াউল হক হাইস্কুল এন্ড কলেজের মোঃ আনোয়ার হোসেন কে ২৮ লক্ষ ৫১ হাজার ৬১৮ টাকা ও একই উপজেলার পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় জান্নাতুল ফেরদৌসী ( সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার) কে ১৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৫০৫ টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে রায়পুরের লুধুয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয়ের (সহকারী শিক্ষক -কম্পিউটার) মোঃ মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ” আমাদের অডিটে তারা আপত্তি তুলেছিল! নিরীক্ষা শাখা জবাব চাইছে। আমি এবং আমার প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টে জবাব দিয়েছি। তারা আমার সনদ জাল পায়নি। তবে আমাকে জাল সনদের তালিকায় দেখানোর কারনে আগামী তিন বছরের মধ্যে নতুন করে কোর্স করে সনদ জমা দেওয়ার শর্ত দিয়েছেন। সনদ জাল না হলেও অধিদপ্তর কেন তাকে নতুন করে কোর্স করার শর্ত দিয়েছে? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে কোন সদুত্তর না দিয়ে সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, সেটা ডিপার্টমেন্টকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। ”
রামগঞ্জ উপজেলার জিয়াউল হক হাইস্কুল এন্ড কলেজের মোঃ আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ” এখন পর্যন্ত অধিদপ্তর থেকে আমার কাছে জাল সনদের জবাব চেয়ে কোন চিঠি আসেনি। আমার তো এনটিআরসি এর নিবন্ধন আছে। তারা কী আমার সনদ চেক না করেই নিবন্ধন দিয়েছেন? ”
কমলনগর উপজেলার হাজির হাট উপকূল কলেজ, মোঃ আক্তার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ” আমার সনদ জাল নয়। আমি নিরীক্ষা শাখাকে জবাব দিয়েছি। যুব উন্নয়ন থেকে আমার সনদটি নেওয়া হলেও জাল সনদের তালিকায় আমার নাম রেখে অধিদপ্তর কেন হয়রানি করছে, তা বলতে পারছি না। পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ” এবিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে অধিদপ্তরের কোন চিঠি আসেনি। আসলে তখন তার জবাব দিবো। লক্ষ্মীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম মিত্র বলেন, ” শিক্ষকদের সনদ জাল, এগুলো অধিদপ্তরের বিষয়। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। আমার কিছু করনীয় নেই।
