

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার :
পুরোনো বন্ধুদের একসাথে ফিরে পাওয়ার আনন্দ, শৈশবের সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ আর একে অপরের সাথে কুশলাদি মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দপুর দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের 'ঈদ পুনর্মিলনী -২০২৬'
মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দিনব্যাপী এই মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ব্যাচের শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মাদ্রাসা চত্বর যেন এক টুকরো মিলনতীর্থে পরিণত হয় তেমন ভাবনা মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে সুমন নামের সাবেক একজন শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানের দিনে সকালে বর্ণাঢ্য আনন্দ মুখোর পরিবেশের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করতে পারেন । মাদ্রাসার মূল মিলনায়তনে এক আলোচনা ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে জনগণকে ম্যাসেজ দিতে চান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী সুমন যিনি মাদ্রাসার অন্যতম শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত মুখ। তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষাজীবন সুন্দর ভাবে সম্পুর্ন করে দেখিয়েছেন এ প্রতিষ্ঠান শুধু মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান নয় বরং আস্থার নাম। মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের মনে উৎসাহের সৃষ্টি করানো। যাতে আগামীতে প্রতিটি পরিবার থেকে এই প্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানদের ভর্তি করিয়ে পড়ালেখার সুযোগ করে দেন। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষা গ্রহণ করে বড়দের সম্মান ও ছোটোদের স্নেহের চোখে দেখে।
কারণ বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের, বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে ভুলেই গেছে যুবকরা। এতে করে বিভিন্ন লোকজন চা আড্ডায় বা কোনো বৈঠকে বসলেই এমন নানান ধরণের আফসোস আলোচনা ও সমালোচনা করে। সে সময় তারা অভিভাবক নয় শিক্ষা ব্যবস্থাকেই দায়ী করে থাকেন। যা দুঃখজনক হলেও সত্য।
আমরা এই কষ্ট থেকে সবাইকে পরিত্রাণ দিতে চাই। আমাদের মিলনমেলায় এই বিষয়েই সবাইকে ম্যাসেজ দিতে চাই আমাদের ব্যবহারে কেউ যেনো কষ্ট না পায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাখবেন মাদ্রাসার সুপার সহ বর্তমান ও শ্রদ্ধাভাজন সাবেক শিক্ষক মন্ডলী। এছাড়াও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সাবেক ও বর্তমান সভাপতি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ।
সুমানুর রহমান বলেন, "প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, বারবার স্মৃতিতে ভাসে সেই অতীতের দিনগুলো। মনে পড়ে বন্ধু বান্ধবদের সেই কষ্টের অথবা হাসিমাখা মুখ। অনেকেই হয়তো দাখিল পরীক্ষার পর আর পড়ালেখা করতে পারেনি। সংসারের হাল ধরেছে। তাদের সবাইকে নিয়েই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিজ প্রতিষ্ঠান ও নিজগ্রামের শিকড়ের টান কখনো ভোলা যায় না। এই মাদ্রাসা আমাদের নৈতিকতা ও আদর্শের যে শিক্ষা দিয়েছে, তা-ই আমাদের আজকের অবস্থানের সূদুর ভিত্তি।" আমরা আগামীদিনের ও বর্তমানের শিক্ষার্থীদের বার্তা দিতে চাই যে অতীতকে আমরা যেনো ভুলে না যাই। তাই প্রতিবছর সকলে মিলে যেন মিলনমেলার আয়োজন করতে পারি। আর সেখানে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব হিসেবে ভাবনা হলো মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের মঞ্চে উত্তরীয় পরিয়ে এবং ক্রেস্ট দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো।
দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের পর শুরু হবে পরিচয় পর্ব, উন্মুক্ত আড্ডা, ফটোসেশন ও এক মনোজ্ঞ ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যেখানে প্রাক্তন ও নতুন শিক্ষার্থীরাই তাদের কণ্ঠে গান, গজল ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করবে।
কেবল ঈদ পুর্ণমিলনি আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন এবং বর্তমান দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য একটি ‘তহবিল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানান তিনি।
আসন্ন বছরগুলোতেও এই মেলবন্ধন বজায় রাখার এবং মাদ্রাসার গৌরবময় ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নতুন পুরাতন সকলে মিলে মিশে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
