

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র, রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কফিল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, গোপন নির্বাচন আয়োজন এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। মামলার বাদী কলেজটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান। তিনি বর্তমান গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আসন্ন গভর্নিং বডির নির্বাচনেও তিনি শিক্ষক প্রতিনিধি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কোনো প্রকার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা ছাড়াই গত ১ এপ্রিল শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে বলে কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়। পরে ১২ এপ্রিল ওই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদনের জন্য একটি পত্র পাঠানো হয়। সেখানে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে কয়েকজনের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে পরবর্তীতে আবার ১১ মে “শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক পদে নির্বাচনী তফসিল-২০২৬” প্রকাশ করা হয়। ওই তফসিলে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তারিখ আগামী ২০ মে নির্ধারণ করা হয়। বাদীপক্ষের দাবি, একই পদের নির্বাচন একদিকে সম্পন্ন দেখানো এবং অন্যদিকে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, বৈধ প্রার্থী তালিকায় এমন একজন শিক্ষককে রাখা হয়েছে, যার চাকরির মেয়াদ শেষ হতে খুব অল্প সময় বাকি রয়েছে। অথচ গভর্নিং বডির মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় তিনি পূর্ণ মেয়াদ দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন বলে দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ১২ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো পত্র এবং ১১ মে প্রকাশিত নির্বাচনী তফসিলকে “ভুয়া, বেআইনি ও অকার্যকর” ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ মে ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মো. ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ মনির হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও মামলার বিবাদী প্রিয়ব্রত চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
