

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে ছোট্ট মাছুম বারবার তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে, “বাবা, আমার হাতটা কোথায় ?” প্রশ্নটি শুনে কোনো উত্তর দিতে পারেন না বাবা সেলিম। শুধু নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলেন। কারণ, যে হাত ধরে একদিন ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই হাতই আজ নেই।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৬ নম্বর বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের সেলিমের অভিযোগ—সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত আর দায়িত্বহীনতার কারণেই তার ছোট ছেলেকে হারাতে হয়েছে একটি হাত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার পর শিশুটিকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। প্রথমে ভর্তি করা হয় পঙ্গু হাসপাতালে। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। কিন্তু এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরলেও মেলেনি যথাযথ চিকিৎসা। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের সমন্বয়হীনতা, অবহেলা এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই শিশুটির হাতের অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির শারীরিক জটিলতা বাড়লেও দায়িত্বশীল চিকিৎসকদের অনেকেই গুরুত্ব দেননি। বারবার অনুরোধের পরও রোগীর অবস্থার প্রতি প্রয়োজনীয় নজর দেওয়া হয়নি। কখনো অপেক্ষা, কখনো পরীক্ষা, কখনো বিভাগ বদল—এভাবেই কেটে যায় মূল্যবান সময়। আর সেই সময়ের মাশুল দিতে হয় নিষ্পাপ শিশুটিকে।
একপর্যায়ে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির হাত বাঁচানো সম্ভব নয়। জীবন রক্ষায় কেটে ফেলতে হবে হাত। এই সংবাদ শুনে হাসপাতালের করিডোরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মা। আর বাবা সেলিম নির্বাক হয়ে শুধু ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। যে সন্তান কয়েকদিন আগেও দুই হাত তুলে বাবাকে জড়িয়ে ধরতো, আজ সে এক হাত হারিয়ে অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে সবার দিকে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেলিম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু আমার সন্তানের জীবন কি এত সস্তা ? ডাক্তারদের অবহেলায় আজ আমার ছেলে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেল। আমি আমার সন্তানের হাতের বিচার চাই।” তিনি আরও বলেন, “একটা ছোট শিশু কত কষ্ট পেলে বারবার তার কাটা হাত খুঁজে বেড়ায়! আমি এই কষ্ট কোনো বাবার জীবনে দেখতে চাই না।” ঘটনাটি এলাকায় গভীর ক্ষোভ ও মানবিক বেদনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ ঘটনায় বিচার হয় না। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, একটি শিশুর অঙ্গ হারানোর ঘটনায় যদি জবাবদিহি না হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন অবহেলা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা চিকিৎসকদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
