

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে নিরীহ মুসলিমদের ওপর হামলা, নির্যাতন, মসজিদ-মাদ্রাসা ভাংচুর , ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাঁধা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর ধারাবাহিক উসকানিমূলক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজের পর শহরের জিআরপি চত্বরে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে হাজার হাজার ধর্মপ্রান মুসলিম ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। “সৈয়দপুরের সর্বস্তরের মুসলিম ও সুন্নী জনতা” ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচির আয়োজন করে ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন সৈয়দপুর।
জুমার নামাজ শেষে শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জিআরপি চত্বরে জড়ো হন। এসময় ‘ভারত না বাংলাদেশ’ মুসলিম নির্যাতন বন্ধ কর”, “মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলার বিচার চাই”, “ইসলাম বিদ্বেষী ষড়যন্ত্র রুখে দাও” মোদি শুভেন্দু হুঁশিয়ার হুঁশিয়ার ইত্যাদি বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় মোদি ও শুভেন্দুর কুশপত্তলিকা দাহ করে জনতা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত সৈয়দপুর শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা রিজওয়ান আল কাদেরী জিলানী। ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওলামায়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুফতি হামিদ জামাল আশরাফী, মুফতি শাহজাদা আশরাফী, মাওলানা মঈনুল ইসলাম আল কাদেরী, ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মুফতি আবুল কালাম আজাদ, হাফেজ মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহীন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিক আজিজ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার ক্রমাগতভাবে খর্ব করা হচ্ছে। বিভিন্ন অজুহাতে মসজিদ-মাদ্রাসায় হামলা, সেখানকার মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন, হিজাব ও আজানের মতো ধর্মীয় অনুশীলনে বাঁধা দিচ্ছে সেখানকার ক্ষমতাসীনরা। এছাড়া সেখানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। এদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মুসলমানরা সবসময় আন্তরিক ভূমিকা পালন করেছে। তারা দাবি করেন, ভারতে মুসলিমদের ওপর যে দমন-পীড়ন চলছে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সমাবেশ থেকে ভারত সরকারকে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার বিচার এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একইসাথে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তারা।
পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, নির্যাতিত মানুষের মুক্তি এবং বিশ্বব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
