

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতাসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এসময় একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বিএনপি নেতা এবাদ উল্যা গাজী (৬৬) ও জাহিদুল ইসলামকে (১৫) গুরুতর আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢামেকে পাঠানো হয়েছে। তার দুইজনের অবস্থায় আশংকাজনক। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন খোরশেদ আলম (৩৪) নামের একজন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদেরর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে রাতেই খাসেরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ওই ঘটনায় হামলাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সুজন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি ভোলা জেলার সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। সুজন ঢাকার বায়তুল মোকারম এলাকায় ফুটপাথে টুপি বিক্রি করেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ ঘটনার জন্য তাঁরা বিবাদমান প্রতিপক্ষ শামীম গাজী পক্ষকে দায়ী করেছেন। শামীম গাজীকে গত সোমবার রাতে পুলিশ একটি গ্রেপ্তারী পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এঘটনার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সুজন (৩০) বলেন, আমাকে এক লাখ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে এখানে আনা হয়েছে। আসিফ নামের এক লোক এবাদ উল্যা গাজীকে হত্যার জন্য এখানে এনেছেন। আসিফ ঢাকায় ফুটপাতে আমার সাথে টুপি বেচার ব্যবসা করেন। আমি শামীম গাজী বা এবাদ উল্যা গাজীকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সঞ্জয় দাস বলেন, দুই জনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, হামলাকারী হিসেবে সাইফুল ইসলাম সুজনকে এলাকাবাসী গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। একটি বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে। কি কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বা কারা জড়িত সেটা তদন্ত করে বের করা হবে।
