

আবু তাহের,গাইবান্ধা প্রতিনিধি।।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নথি জাল করে দেনমোহরের মামলা দায়ের করায় বাদীকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেই সঙ্গে আইনজীবী আব্দুর রশিদকে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চৌকি) আদালতের বিচারক এসএম গালিব হাসান এ দণ্ডাদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইড় আমবাড়ী গ্রামের হামিদুর হকের মেয়ে মোছাঃ নুরহাত জাহান লিজা (১৮) এর পাশবর্তী রাখালবুরুজ ইউনিয়নের রাখালবুরুজ মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তৌফিক হাসানের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই একপর্যায়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলায় নথিতে কাবিননামা ও জন্মসনদ জাল করে দাখিল করা হয়। এতে জাল কাগজপত্র দাখিল করার অভিযোগ তোলেন বাদীর স্বামী তৌফিক হাসান। এরই একপর্যায়ে মঙ্গলবার আদালতে হাজিরা দিতে আসেন বাদী।
এসময় মামলার বাদী নিজের এবং আসামী প্রমাণ করার জন্য অত্র আদালতে কাবিননামা দাখিল করেন। কিন্তু আদালতে দাখিলকৃত কাবিননামা পর্যালোচনা করে অত্র কাবিননামায় কোন কাজীর স্বাক্ষর না থাকা এবং একইভাবে কাবিননামার ১৫ নম্বর কলাম পর্যালোচনা করে দেখা যায় উভয়পক্ষের মধ্যে তাৎক্ষনিক দেনমোহর অংকে ২০,০০০/- টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কথায় দুই হাজার টাকা উল্লেখ আছে। পরিশোধিত দেনমোহর বিষয়ে কাবিননামায় বিতর্কিত বক্তব্য থাকার কারণে এবং কাবিননামায় কাজীর স্বাক্ষর না থাকার কারণ প্রাথমিক দৃষ্টিতেই কাবিননামাটি জ্বাল এবং তর্কিত মর্মে আদালতের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।
আইন বিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হচ্ছে- মামলার কার্যক্রমে প্রতারণা প্রমাণিত হলে পুরো কার্যক্রম বাতিল বলে গণ্য হবে। অপরদিকে জ্বাল কাগজপত্র দাখিল করে মামলা ফাইলিং করায় গোবিন্দগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সদ্য নবীন আইনজীবী মোঃ আব্দুর রশিদকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই রকম প্রতারণামূলক কাজে যুক্ত না হওয়ার জন্য তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ক্ষমা করা হয়েছে।
প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে ১৮৯৮ এর ধারা ২০৩ অনুযায়ী মামলাটি খারিজ করা হয় এবং মামলার আসামী মোঃ তৌফিক হাসান (২১), আসামী মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫০), আসামী মোছাঃ টপি বেগম (৪৫) এর বিরুদ্ধে ইস্যুকৃত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রিকল করা এবং মিথ্যা জন্ম সনদ এবং ত্রুটিপূর্ণ কাবিননামা দাখিল করে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করার কারণে মামলার বাদী মোছা: নরহাত জাহান লিজাকে সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে গাইবান্ধায় প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে সাহস পাবে না বলে আমরা মনে করছি।
