

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের অন্যতম অর্থকরী ফসল সুপারি। চলতি মৌসুমে জেলায় পাকা, শুকনা ও ভেজানো সুপারি মিলিয়ে প্রায় ৭১০ কোটি টাকার বেচাকেনার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপারিকে কেন্দ্র করে জেলার শতাধিক হাটবাজারে জমে উঠেছে কেনাবেচা। এতে লাভের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানমালিক, কৃষক, পাইকারি ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ।
লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন বাজারে সুপারি কেনাবেচা চলছে। রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, মীরগঞ্জ ও দেনায়েতপুর এবং সদর উপজেলার দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, ভবানীগঞ্জ, মান্দারী ও জকসিন সুপারির উল্লেখযোগ্য মোকাম হিসেবে পরিচিত। এসব বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুপারি কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছেন পাইকাররা।
উত্তর তেমুহনী বাজারে বর্তমানে প্রতি পণ (৮০টি) পাকা সুপারি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা এবং প্রতি কাউন (১ হাজার ২৮০টি) ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে সুপারির আকার, মান ও বাজারভেদে দাম পরিবর্তিত হতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সুপারিবাগান রয়েছে। গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৪২ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪২ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন। জেলার মোট উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি আসে রায়পুর উপজেলা থেকে।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য উপযোগী। একটি সুপারিগাছ থেকে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ফলন পাওয়া সম্ভব হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি আয়ের উৎস হিসেবে এ চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
সুপারি শুধু কৃষকের আয় বাড়ায় না, মৌসুমে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করে। গাছ থেকে সুপারি পাড়া, বাছাই, পরিবহন, ভেজানো ও শুকানোর কাজে যুক্ত থাকেন বহু শ্রমিক। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিজ্ঞ শ্রমিকেরা মৌসুমে প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত সুপারি পাকা, ভেজানো ও শুকনা—বিভিন্নভাবে বাজারজাত করা হয়। উৎপাদিত সুপারির বড় একটি অংশ পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে সুপারি প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে এ খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সুপারির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং কৃষকদের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা করা জরুরি। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে লক্ষ্মীপুরের সুপারি শিল্প স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
লক্ষ্মীপুরের সুপারি তাই শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়; এটি জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও হাজারো মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।
