ঢাকা
প্রকাশিত : October 14, 2026
আপডেট: October 14, 2026
প্রকাশিত : October 14, 2026

বাউফলে ৬ জনের সংসারে ৪ জন মানসিক রোগি, মানবেতর জীবন-যাপন

মো. ফোরকান, বাউফল, পটুয়াখালী।।

নিজেই অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে ১৮ বছরের সবুজকে। বাড়িতে ফিরেও স্বস্তি নেই। বৃদ্ধ বাবা-মা, বড় ভাই ও বোন—চারজনই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন।

একদিকে নিজের অসুস্থতা, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের এমন অবস্থা। সব মিলিয়ে অসহায় জীবন কাটছে সবুজের।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বামনিকাঠি গ্রামের ইউসুফ হাওলাদারের পরিবারে এমন করুণ চিত্র দেখা গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইউসুফ হাওলাদার (৭০), তাঁর স্ত্রী সহার ভানু (৬০), বড় ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৭) ও বড় মেয়ে রাসেদা (৩২) দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। ছোট ছেলে সবুজ (১৮) নিজেও নানা শারীরিক অসুস্থতায় আক্রান্ত। মেজো ছেলে ছব্দার (২৬) ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাঁর সীমিত আয়েই চলছে পরিবারের সংসার। আরেক মেয়ে লাবলি (২৮) বিয়ের পর স্বামীর সংসারে রয়েছেন।

পরিবারের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে সবুজ বলেন, আমরা সবাই কমবেশি অসুস্থ। বড় বোন সারাদিন পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। বাঁধা দিলে গালিগালাজ করে, তাই আর বাঁধা দেই না। বড় ভাই সারাদিন পানি টেনে এনে গোবর, মাটি ও ময়লা মিশিয়ে চারদিকে ছিটাতে থাকে। আমিও অসুস্থ। কিছুদিন আগে পটুয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা না নিয়েই বাড়ি ফিরে এসেছি। এখনো শরীরটা খারাপ লাগছে।

একই পরিবারের চারজনের মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে প্রতিবেশীদেরও।

মমিন হাওলাদার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ছোটবেলায় তাঁদের অনেকেই স্বাভাবিক ছিলেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে একে একে চারজনের এমন অবস্থা হয়েছে। বিষয়টি আমাদেরও অবাক করেছে। উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো তাঁরা অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠতে পারতেন।

প্রতিবেশি আবুবকর মিল্টন বলেন, ইউসুফ হাওলাদার বিয়ের আগে থেকেই একটু ব্যতিক্রমী স্বভাবের ছিলেন। সবাই যখন ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতেন, তখন তিনি একাই কোদাল দিয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ জমি চাষ করতেন। একা একা কথা বলতেন। এখনো অন্যদের চলাচলের পথ এড়িয়ে নিজের মতো চলেন। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা করিয়েছি। এখন আর পারছি না। সরকার যদি তাঁদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করত, তাহলে অনেক উপকার হতো।

স্থানীয়রা জানান, পরিবারের একাধিক সদস্য অসুস্থ থাকায় তাঁদের নিয়মিত দেখাশোনা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বড় মেয়ে রাসেদার নিরাপত্তা এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পরিচর্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, পরিবারটির সদস্যদের দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।

একই ঘরে অসুস্থ পাঁচজন মানুষ। চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য নেই। পরিবারের একমাত্র নিয়মিত উপার্জনক্ষম সদস্যের সীমিত আয়েই চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা ও উন্নত চিকিৎসার আশায় দিন গুনছে পরিবারটি।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram