

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আজিজুন নাহার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নতুন কর্মস্থলে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগে তিনি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন ও লুটপাট বন্ধে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনার ঘটনায় আলোচনায় আসেন তিনি।
রায়পুরে তাঁর যোগদানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রশাসনের প্রত্যাশা সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিত করা নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে উঠবে।
রায়পুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও স্থানীয় উন্নয়নের সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, যোগাযোগব্যবস্থা, বাজার তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়গুলো ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় এবং নিয়মিত তদারকি কার্যকর প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ভূমিসংক্রান্ত সেবা গ্রহণে হয়রানি কমানো, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান পর্যবেক্ষণ, বাজারে অনিয়ম প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং অসহায় মানুষের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাফল্য শুধু প্রশাসনিক সভা কিংবা আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাধারণ মানুষ কতটা সহজে সরকারি সেবা পাচ্ছেন, তাঁদের অভিযোগ কত দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কতটা স্বচ্ছতা বজায় থাকছে—এসব বিষয় দিয়েও তা মূল্যায়িত হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে আইন প্রয়োগ, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করলে জনআস্থা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়।
আজিজুন নাহারের সামনে এখন রায়পুরের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা নতুন কর্মস্থলে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগে, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়।
রায়পুরবাসীর প্রত্যাশা, নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সততা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই তাঁর প্রশাসনিক কার্যক্রমের ইতিবাচক মূল্যায়ন তৈরি হবে।
