

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট।।
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিট থেকে একসঙ্গে ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রথম ইউনিটে ৬৫৬ এবং দ্বিতীয় ইউনিটে ৬৬৫ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছিল। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দুই ইউনিট থেকেই এদিন রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ ছিল। মেরামত শেষে ইউনিটটি আবার চালু হওয়ায় কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই ইউনিট মিলে সর্বোচ্চ উৎপাদনের এই রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) চুক্তি সই করে। ওই চুক্তির ভিত্তিতে গঠিত হয় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় প্রায় ১ হাজার ৩৪ একর জমির ওপর কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট’-এর স্থাপিত ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।
৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে যায়। পরের বছর ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। দুটি ইউনিটের সম্মিলিত স্থাপিত ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট।
সাধারণত দুই ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে কেন্দ্রটি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এবার সেই মাত্রা ছাড়িয়ে ১ হাজার ৩২১ মেগাওয়াট উৎপাদনের তথ্য দিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
