ঢাকা
১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১১:০২
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্যোগে মোংলায় ৩৮১ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও বাইসাইকেল বিতরণ


ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট।।

‎বাগেরহাটের মোংলায় উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ ও জীবনমান উন্নয়নে ৩৮১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার ক..

‎বাগেরহাটের মোংলা উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) পরিচালিত রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্যোগে ৩৮১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বুড়িরডাঙ্গি ইউনিয়নের দিগরাজ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে এই শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চলমান কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রান্তিক ও উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং তাদের ঝরে পড়া রোধের লক্ষ্যেই মূলত এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প প্রধান অভিষেক কুমার এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন, যা আয়োজনের প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই মহতী উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করা হয়নি, বরং উপকূলীয় এলাকার সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের যাত্রাকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা করার একটি দৃঢ় প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সুশৃঙ্খল সামাজিক রূপ দান করেন।

‎বিতরণকৃত শিক্ষা সামগ্রীর মধ্যে ছিল আধুনিক স্কুলব্যাগ, হাইজিন মেইনটেইন করার জন্য পানির বোতল ও টিফিন বক্স, লেখার প্রয়োজনীয় খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, রুলার, জ্যামিতি বক্স এবং বর্ষার কথা মাথায় রেখে ছাতা। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা অথচ অত্যন্ত মেধাবী এমন ২২ জন শিক্ষার্থীকে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাইসাইকেল প্রদান করা হয়, যা এই আয়োজনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ জনপদের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিদিন দূর-দূরত্ব থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীদের জন্য বাইসাইকেল একটি বড় স্বস্তির বিষয়। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম, বুড়িরডাঙ্গি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উদয় শংকর বিশ্বাস, দিগরাজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরমানন্দ বিশ্বাস এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব সামগ্রী তুলে দেন। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের বস্তুগত সহায়তা প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে উৎসাহিত করে। দীর্ঘমেয়াদে এই সহায়তা শিক্ষার্থীদের কেবল পড়ালেখায় ধরে রাখতেই সাহায্য করবে না, বরং তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে আগামী দিনের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পথকে প্রশস্ত করবে।

‎অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা ও স্থানীয় সুধীজন রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই ধরণের জনকল্যাণমুখী ও সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে বিআইএফপিসিএল যেভাবে উপকূলীয় জনপদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণসহ নানাবিধ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে, তা কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকেরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, অনেক সময় হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে সন্তানদের পড়াশোনার ন্যূনতম খরচ বহন করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ধরনের সহায়তা তাদের জন্য একটি বড় ধরনের মানসিক ও আর্থিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। নতুন ব্যাগ, খাতা-কলম এবং বিশেষ করে বাইসাইকেল হাতে পাওয়ার পর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে যে অনাবিল আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, তা প্রমাণ করে যে এই উদ্যোগটি সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এভাবেই এগিয়ে আসে, তবে দেশের কোনো শিশুই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‎পরিশেষে, মোংলা উপকূলের মতো একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মাঝে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি মজবুত করার মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগ শুধু সাময়িক সাহায্য নয়, বরং এটি স্থানীয় জনপদের জীবনমান উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। ভবিষ্যতেও রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও শিক্ষা প্রসারে তাদের এই ধারাবাহিক সমর্থন বজায় রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে বিশেষ অবদান রাখবে।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram