

এস এম আওলাদ হোসেন, সিনিয়র রিপোর্টার।।
লক্ষ্মীপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ চারলেন সড়কের বিভিন্ন অংশ অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে যানজট ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সড়কের ফুটপাত ও চলাচলের জায়গা দখল করে বসানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ দোকান, ফলের ভ্যান, পণ্যসামগ্রীর পসরা ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা। ফলে সড়কের প্রশস্ততা থাকলেও বাস্তবে এর একটি বড় অংশ ব্যবহার হচ্ছে বাণিজ্যিক কাজে।
বারবার অভিযান, কয়েকদিন পরই আগের চিত্র—স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই একই স্থানে আবারও বসছে দোকানপাট ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা। এতে উচ্ছেদ অভিযান অনেকটা সাময়িক সমাধানে সীমাবদ্ধ থাকছে; স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
ছবিতে দেখা যায়, সড়কের পাশে ও ফুটপাতের ওপর ফলের ভ্যান, দোকানের মালামাল ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও পথচারীদের হাঁটার জায়গাও সংকুচিত হয়ে গেছে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়কের কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ব্যস্ত সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
যানবাহন ও পথচারী উভয়েই ভোগান্তিতে
শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই পথ ব্যবহার করেন। সড়কের পাশে অবৈধভাবে পণ্য সাজিয়ে রাখা এবং ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়। বিশেষ করে বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
স্থানীয় পথচারীরা বলছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে নিরাপদে হাঁটা সম্ভব। কিন্তু ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় শিশু, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীদের অনেক সময় ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
শুধু উচ্ছেদ নয়, প্রয়োজন স্থায়ী সমাধান
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অবৈধ দখল উচ্ছেদের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, দখলমুক্ত জায়গায় পুনরায় দোকান বসানো বন্ধ করা এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ফুটপাত ও সড়কের নির্ধারিত অংশের সীমানা চিহ্নিত করে সেখানে স্থায়ীভাবে কোনো দোকান, ভ্যান বা পণ্যসামগ্রী রাখার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার কথাও বলছেন তারা।
পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনাই পারে সুফল দিতে
লক্ষ্মীপুর শহরের চারলেন সড়ক নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যান চলাচল সহজ করা এবং নাগরিকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচলের সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে থাকলে সেই উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হয়।
তাই স্থানীয়দের দাবি, বারবার উচ্ছেদ অভিযান নয়—দখলমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজন স্থায়ী, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা। নিয়মিত তদারকি, নির্দিষ্ট হকার জোন, ফুটপাত ব্যবহারের সুস্পষ্ট নীতিমালা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পরিস্থিতির টেকসই উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
সড়কটি শুধু যানবাহন চলাচলের জন্য নয়, পথচারীদেরও নিরাপদ চলাচলের অধিকার রয়েছে। তাই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চারলেন সড়ককে অবৈধ দখলমুক্ত রাখার কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
