

ফোরকান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে নির্মাণাধীন একটি আরসিসি গার্ডার সেতু হস্তান্তরের আগেই ধসে পড়েছে। ফাটল দেখা দিয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে। সম্প্রতি ব্রিজটির এ্যাপ্রোচ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ শুরু হলে বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ধসের সৃষ্টি হয়।
বাউফল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সূত্রে জানাগেছে, ২৩-২৪অর্থ বছরে মোট ১কোটি ১৬লাখ ৪৮হাজার ১শত ৭৯টাকা ব্যায়ে পশ্চিম নুরাইনপুর সারকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজের কাজ শুরু করে ‘'মেসার্স রুকাইয়া ট্রেডার্স’' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের অধিনে নির্মাণাধীন ওই ব্রীজের কাজ ২৪ সালে শুরু হয়ে ২৫সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত ৩বছরেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির কারণে নুরাইপুর বাজারের সাথে স্থানীয়দের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ব্রিজটির মূল অংশের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি এ্যাপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করলে ব্রিজের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। পশ্চিম তীরের একাংশ ধসে একদিকে হেলে পড়েছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে উভয় তীরের নির্মাণে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ওই ফাটল ও ধস সৃষ্টি হয়েছে। এছারাও ব্রিজের উপরের অংশে লোহার রড বেড়িয়ে রয়েছে যা মরিচা ধরে বিনষ্ট হয়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনির ব্যাপারী জানান, ব্রিজের সম্পূর্ণ ঢালাই পাথরের হওয়ার কথা থাকলেও নিম্ন মানের খোয়া দিয়ে রাতের আধারে অনেকদিন ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। যার ফলে বিভন্ন জায়গায় ফাটল ও ধসের ঘটনা ঘটেছে।
সানু হাওলাদার নামের অপর এক ব্যক্তি বলেন, গত ৩/৪ বছর ধরে কাজটি এভাবে পড়ে আছে। পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভেগান্তিতে রয়েছেন। মেসার্স রুকাইয়া ট্রেডাস’র মালিক ঠিকাদার রফিক সিকদার বলেন, বিষয়টি আমি জানি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাত-দিন করে মাটি ফেলার কারণে একটু ঝামেলা হইছে তবে আমি ওটা ঠিক করে দেবো। সাব কন্ট্রাক্টর দিয়ে কাজ করিয়েছি সে জন্য একটু এদিক সেদিক হয়েছে। কাজ ২৫ সালে শেষ হওয়ার কথা এখনও কেন শেষ হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার পারিবারিক একটু ঝামেলার কারণে আটকে গেছিলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাউফল উপজেলা ত্রান ও দুর্যোগের তদারকি কর্মকর্তা পিআইও মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি বিষয়ে আমি জানি, ওখানের রির্টানিং ওয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। ঠিকাদারকে ওটা ঠিক করে দেয়াসহ পুরো কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
