ঢাকা
৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১২:০৫
প্রকাশিত : জুলাই ৬, ২০২৬
আপডেট: জুলাই ৬, ২০২৬
প্রকাশিত : জুলাই ৬, ২০২৬

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, মৃত ৫০০ ছাড়াল

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। সোমবার প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে ১,৫৬১ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৩২ শতাংশ।

ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২৫৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি ইবোলার উপসর্গ নিয়ে আরও ৩৫৪টি সন্দেহভাজন ঘটনার তদন্ত চলছে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশ। যদিও সংক্রমণ ইতোমধ্যে চারটি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতুরি অঞ্চল। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার কারণে অঞ্চলটি অস্থিতিশীল। কয়েকটি রহস্যজনক মৃত্যুর পর গত ১৫ মে এটিকে দেশটির ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এই ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে নতুন চিকিৎসার আশায় ডিআর কঙ্গোতে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেখানে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি-১৩৪ (MBP134) এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির একক ও সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ইবোলার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সেখানে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশটির পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মোট ২০টি নিশ্চিত সংক্রমণের মধ্যে ১৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

এদিকে, ইবোলায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ অতিক্রম করার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ডব্লিউএইচওর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বৈশ্বিক মহামারি চুক্তির অসমাপ্ত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেখা দেওয়া সমন্বয়হীনতা দূর করতেই এই আন্তর্জাতিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, "পরবর্তী মহামারি আমাদের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করবে না।" তিনি বলেন, ডিআর কঙ্গোর বর্তমান ইবোলা পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে মহামারির হুমকি কোনো কল্পিত বিষয় নয়, বরং এটি বাস্তব এবং চলমান। তার ভাষায়, "ইবোলাই হয়তো পরবর্তী বৈশ্বিক মহামারি হবে না, কিন্তু এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সংক্রামক রোগের হুমকি কখনোই পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।"

ইবোলা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে গিয়ে ইবোলায় আক্রান্ত হওয়া দেশটির প্রথম রোগী—একজন চিকিৎসক—সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ওই চিকিৎসকের শরীরে ২৩ জুন ডিআর কঙ্গো থেকে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram