

এস এম আওলাদ হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নাম নয়; এটি রাষ্ট্র গঠন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের দীর্ঘ অভিযাত্রার অন্যতম প্রধান বাহক।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত দলটি ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা হলো—কোনো রাজনৈতিক দলই তার অতীত গৌরবের ওপর চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। জনগণের আস্থা হারালে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দলও সংকটে পড়ে।
আজ আওয়ামী লীগ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী একটি দল নিষিদ্ধ কার্যক্রম, নেতৃত্বের বিচ্ছিন্নতা, সাংগঠনিক ভাঙন এবং জনসমর্থনের সংকটের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিস্থিতির জন্য কি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দায়ী, নাকি এর পেছনে দীর্ঘদিনের কিছু আত্মঘাতী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও কাজ করেছে ?
রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের একটি অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাই জনসমর্থনের বিকল্প হতে পারে। বাস্তবে সেটি কখনোই সম্ভব নয়। যখন একটি রাজনৈতিক দল জনগণের পরিবর্তে আমলাতন্ত্রের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন তার সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে শুরু করে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতা দৃশ্যমান হয়েছিল।
বিশেষ করে গত এক দশকে জাতীয় নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়, তা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ভোটারদের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে নির্বাচনমুখী আগ্রহ হারাতে থাকে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে গেলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতাও কমে যায়। ফলশ্রুতিতে জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। গণতন্ত্রের প্রাণ হলো অংশগ্রহণ, আর সেই অংশগ্রহণ দুর্বল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে উন্নয়নের প্রশ্নেও আওয়ামী লীগ একটি দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিঃসন্দেহে সরকারের বড় অর্জন ছিল। কিন্তু উন্নয়নের সুফল নিয়ে জনগণের গর্ব যতটা ছিল, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগও ততটাই ছিল। সাধারণ মানুষ উন্নয়ন দেখে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা বৈষম্যও দেখে। যখন কিছু ব্যক্তি অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়, তখন উন্নয়নের গল্প প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।
দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে সুযোগসন্ধানী ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ছিল। ত্যাগী কর্মীদের চেয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যক্তিদের গুরুত্ব বাড়লে সাংগঠনিক প্রাণশক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আওয়ামী লীগের অনেক তৃণমূল নেতা-কর্মীর মধ্যেও এমন অসন্তোষ প্রকাশ্যে ও আড়ালে শোনা গেছে। রাজনৈতিক দল তখনই শক্তিশালী থাকে, যখন তার নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক অটুট থাকে।
তবে আওয়ামী লীগের সংকট কেবল আওয়ামী লীগের নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সংকট। কারণ ক্ষমতায় থাকা প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনো সময়ে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছে। বিরোধী মতকে প্রতিপক্ষ নয়, শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে ব্যর্থতা—এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকে দুর্বল করেছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো দলের কর্মকাণ্ড আইনগত বিচারের আওতায় আসতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা অধিক কার্যকর। ইতিহাস বলে, ধারণা ও মতাদর্শকে প্রশাসনিক আদেশে মুছে ফেলা যায় না। জনগণ যদি কোনো দলকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে সেই দল এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে; আর জনগণ যদি গ্রহণ করে, তবে নিষেধাজ্ঞাও তাকে স্থায়ীভাবে থামাতে পারে না।
আজ আওয়ামী লীগের সামনে দুটি পথ খোলা। একটি হলো অতীতের ভুল অস্বীকার করে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা; অন্যটি হলো সাহসিকতার সঙ্গে আত্মসমালোচনা করা, ভুল স্বীকার করা এবং নতুন করে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা। দ্বিতীয় পথটি কঠিন, কিন্তু টিকে থাকার জন্য সেটিই প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিরও মনে রাখা উচিত, আজ যে বাস্তবতা আওয়ামী লীগের জন্য সৃষ্টি হয়েছে, ভবিষ্যতে তা অন্য কারও জন্যও হতে পারে। গণতন্ত্র, জবাবদিহি, সহনশীলতা এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে শক্তিশালী না করলে কোনো দলই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ নয়।
সময়ের আদালত কখনো পক্ষপাত করে না। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার নয়, জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেয়। আওয়ামী লীগের বর্তমান সংকট সেই চিরন্তন সত্যকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না, আর আত্মসমালোচনাহীন কোনো দল ইতিহাসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না।
সময়ের কাঠগড়ায় আওয়ামী লীগ: ইতিহাস, ক্ষমতা ও আত্মসমালোচনার অনিবার্যতা
এস এম আওলাদ হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নাম নয়; এটি রাষ্ট্র গঠন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের দীর্ঘ অভিযাত্রার অন্যতম প্রধান বাহক।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত দলটি ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা হলো—কোনো রাজনৈতিক দলই তার অতীত গৌরবের ওপর চিরকাল দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। জনগণের আস্থা হারালে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী দলও সংকটে পড়ে।
আজ আওয়ামী লীগ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী একটি দল নিষিদ্ধ কার্যক্রম, নেতৃত্বের বিচ্ছিন্নতা, সাংগঠনিক ভাঙন এবং জনসমর্থনের সংকটের মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিস্থিতির জন্য কি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দায়ী, নাকি এর পেছনে দীর্ঘদিনের কিছু আত্মঘাতী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও কাজ করেছে ?
রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের একটি অংশ বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতাই জনসমর্থনের বিকল্প হতে পারে। বাস্তবে সেটি কখনোই সম্ভব নয়। যখন একটি রাজনৈতিক দল জনগণের পরিবর্তে আমলাতন্ত্রের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন তার সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হতে শুরু করে। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও সেই বাস্তবতা দৃশ্যমান হয়েছিল।
বিশেষ করে গত এক দশকে জাতীয় নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়, তা দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ভোটারদের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে নির্বাচনমুখী আগ্রহ হারাতে থাকে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে গেলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতাও কমে যায়। ফলশ্রুতিতে জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। গণতন্ত্রের প্রাণ হলো অংশগ্রহণ, আর সেই অংশগ্রহণ দুর্বল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে উন্নয়নের প্রশ্নেও আওয়ামী লীগ একটি দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিঃসন্দেহে সরকারের বড় অর্জন ছিল। কিন্তু উন্নয়নের সুফল নিয়ে জনগণের গর্ব যতটা ছিল, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগও ততটাই ছিল। সাধারণ মানুষ উন্নয়ন দেখে, কিন্তু একই সঙ্গে তারা বৈষম্যও দেখে। যখন কিছু ব্যক্তি অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়, তখন উন্নয়নের গল্প প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে।
দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে সুযোগসন্ধানী ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পায় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ছিল। ত্যাগী কর্মীদের চেয়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক ব্যক্তিদের গুরুত্ব বাড়লে সাংগঠনিক প্রাণশক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আওয়ামী লীগের অনেক তৃণমূল নেতা-কর্মীর মধ্যেও এমন অসন্তোষ প্রকাশ্যে ও আড়ালে শোনা গেছে। রাজনৈতিক দল তখনই শক্তিশালী থাকে, যখন তার নেতৃত্ব ও কর্মীদের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক অটুট থাকে।
তবে আওয়ামী লীগের সংকট কেবল আওয়ামী লীগের নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সংকট। কারণ ক্ষমতায় থাকা প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনো সময়ে একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি করেছে। বিরোধী মতকে প্রতিপক্ষ নয়, শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে ব্যর্থতা—এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকে দুর্বল করেছে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো দলের কর্মকাণ্ড আইনগত বিচারের আওতায় আসতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা অধিক কার্যকর। ইতিহাস বলে, ধারণা ও মতাদর্শকে প্রশাসনিক আদেশে মুছে ফেলা যায় না। জনগণ যদি কোনো দলকে প্রত্যাখ্যান করে, তবে সেই দল এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে; আর জনগণ যদি গ্রহণ করে, তবে নিষেধাজ্ঞাও তাকে স্থায়ীভাবে থামাতে পারে না।
আজ আওয়ামী লীগের সামনে দুটি পথ খোলা। একটি হলো অতীতের ভুল অস্বীকার করে রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা; অন্যটি হলো সাহসিকতার সঙ্গে আত্মসমালোচনা করা, ভুল স্বীকার করা এবং নতুন করে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা। দ্বিতীয় পথটি কঠিন, কিন্তু টিকে থাকার জন্য সেটিই প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিরও মনে রাখা উচিত, আজ যে বাস্তবতা আওয়ামী লীগের জন্য সৃষ্টি হয়েছে, ভবিষ্যতে তা অন্য কারও জন্যও হতে পারে। গণতন্ত্র, জবাবদিহি, সহনশীলতা এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে শক্তিশালী না করলে কোনো দলই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ নয়।
সময়ের আদালত কখনো পক্ষপাত করে না। ইতিহাস শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার নয়, জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেয়। আওয়ামী লীগের বর্তমান সংকট সেই চিরন্তন সত্যকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না, আর আত্মসমালোচনাহীন কোনো দল ইতিহাসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না।
