

আবু তাহের,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রীসহ চারজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত সুমাইয়া আক্তার (১১) নামের এক কিশোরীর মুখমণ্ডলে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। লোহার রডের আঘাতে তার ছয়টি দাঁত ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ৫ জুন উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শিশুদহ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছে।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশুদহ গ্রামের সাদেকুল ইসলামের ছেলে মিজু আহম্মেদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে দুই লাখ টাকা পাওনা ছিল দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের আঞ্জুয়ারা বেগমের। নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত ৫ জুন পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে আঞ্জুয়ারা বেগমের ভাই শাওন হোসেন শিশুদহ গ্রামে যান। সেখানে মিজুর সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে শাওনের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় মামার চিৎকার শুনে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার। তখন হামলাকারীরা সুমাইয়ার ওপরও চড়াও হয় এবং তার মুখমণ্ডলে নির্মমভাবে আঘাত করে। এতে সুমাইয়ার ওপরের পাটির চারটি এবং নিচের পাটির দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং সে রক্তাক্ত জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাওনা টাকার বিরোধে ১১ বছরের এক কিশোরীকে এভাবে নির্মমভাবে আহতের ঘটনায় স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।
মামলায় মিজু আহম্মেদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বড় ভাই মেহেদুল ইসলাম ও বাবা সাদেকুল প্রধানসহ অন্যদের আসামি করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারে আলম খান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
