

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি ব্রিজের সন্নিকটে বাঙালি নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় দিনরাত অবাধে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি নদী ভাঙনের কবলে চরম হুমকিতে পড়েছে। এতে যে কোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বাঙ্গাবাড়ি ব্রিজের উত্তর পাশে একদম কাছ থেকেই শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন নদী থেকে বালু তুলছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে সেই বালু প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে ব্রিজের পিলারের নিচের মাটি সরে যাবে। যা ব্রিজের কাঠামোগত স্থায়িত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, " বালু উত্তোলনকারি
প্রভাবশালীদের ভয়ে আমরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছি না। কিন্তু এভাবে বালু তোলা বন্ধ না হলে কোটি টাকার এই ব্রিজটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আমাদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত এই অবৈধ ড্রেজার বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"
সচেতন মহলের মতে, ব্রিজের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে নদী থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ড্রেজার সচল থাকায় শুধু ব্রিজই নয়, আশপাশের ফসলি জমি ও বসতভিটাও নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা অবিলম্বে বাঙালি নদীর বাঙ্গাবাড়ি ব্রিজ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ করাসহ দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
