ঢাকা
২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১২:০৮
প্রকাশিত : মে ২৭, ২০২৬
আপডেট: মে ২৭, ২০২৬
প্রকাশিত : মে ২৭, ২০২৬

গাইবান্ধায় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয়: হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল-ইয়াবা-গাঁজা

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

ঈদকে সামনে রেখে গাইবান্ধা জেলাজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। জেলার ৭টি উপজেলার সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলো দিয়ে প্রতিনিয়ত ঢুকছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও হিরোইনের মতো মারাত্মক সব মাদকদ্রব্য। ঈদকে কেন্দ্র করে তরুণ ও যুবসমাজের মাঝে মাদকের চাহিদা বাড়বে ফলে মাদককারবারিরা রাতারাতি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় ও আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

এমনটা প্রতিবছর ঘটে এবছর ও তার ব্যতিক্রম নয়। ​অনুসন্ধানে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে মাদক কারবারিরা। ​গাইবান্ধা সদর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সাদুল্লাপুর— প্রতিটি উপজেলাতেই গড়ে উঠেছে মাদকের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

বিশেষ করে পাশ্ববর্তী সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট এবং উত্তরের প্রবেশদ্বার খ্যাত গোবিন্দগঞ্জ-পলাশবাড়ী রুট ব্যবহার করে এসব মাদক ঢুকছে। চরাঞ্চল ও সীমান্তঘেঁষা সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলা দিয়ে নদীপথে আসছে গাঁজা ও ফেনসিডিলের বড় বড় চালান। এমনটাই অভিযোগ সচেতন মহলের। ইয়াবা ও টাপেন্ডাডল আকারে ছোট এবং সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও রেলপথের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় এগুলো নিয়ে আসা হচ্ছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঈদের বাজার জমে ওঠার পাশাপাশি মাদকের বাজারও জমজমাট। এখন আর আগের মতো নির্দিষ্ট মাদক স্পটে গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় করতে হয় না। মুঠোফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গোপন কোড ব্যবহার করে অর্ডার করলেই পৌঁছে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত মাদক। এছাড়া প্রতিটি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের চা-দোকান, রেললাইন সংলগ্ন এলাকা এবং নির্জন চরাঞ্চলগুলোকে নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। নাম প্রকাশে কয়েকজন অভিভাবক বলেন "ঈদের আনন্দ করার কথা তরুণদের। কিন্তু এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা আর গাঁজা। আমরা সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছি।" সংসারে অশান্তি। টাকা না পেলেই আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করে। এমনকি লাঞ্ছিত বা মারপিট করতেও দ্বিধা করে না। মাদকসেবী সন্তানদের নিয়ে বিপাকে এখন হাজার হাজার পরিবার। ​মাদক কারবারিদের এই তৎপরতা রুখতে জেলা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ইতিমধ্যেই তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে। জেলাজুড়ে বসানো হয়েছে বিশেষ চেকপোস্ট। গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ বেশ কয়েকজন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। ​তবে সচেতন মহলের দাবি, শুধু দু-একজন চুনোপুঁটি ধরলে এই মহামারি থামবে না।

ঈদের আগেই মাদকের মূল হোতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে হবে ​এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। ঈদকে সামনে রেখে কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।" ​আসন্ন ঈদকে মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram