ঢাকা
২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ৯:১৩
প্রকাশিত : এপ্রিল ২০, ২০২৬
আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২৬
প্রকাশিত : এপ্রিল ২০, ২০২৬

প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে ১৫০ এসএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

আবু তাহের, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকারে গাফিলতিতে বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে পরীক্ষার আগেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের ২১২ জন শিক্ষার্থীর এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র তুলতে গিয়ে দেখেন- কারো মা-বাবার নাম ভুল, কারো পুরুষ শিক্ষার্থীর ছবির জায়গায় মেয়ের ছবি। আবার ছেলের ছবির জায়গায় মেয়ে শিক্ষার্থীর ছবি। অনেকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করলেও অ্যাডমিট কার্ডে মানবিক বিভাগ উল্লেখ রয়েছে। আবার বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি। পরীক্ষার্থীরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার ফরম পূরণের টাকার হিসাব যেন প্রতিষ্ঠানের অন্যরা না জানে, সেজন্য বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কম্পিউটার অপারেটরের সহযোগিতা না নিয়ে একটি দোকান থেকে কাজ করান। এতে শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে নানান ভুল হয়েছে।

স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানায়, চলতি মাসের ২১ তারিখ থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৮ জন, মানবিকে ১৪৫ জনসহ মোট ২১২ জনের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কয়েকদিন আগেই ফুলছড়ির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেয়। কিন্তু কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র তুলে দেখতে পান ভুলে ভরা। বিদ্যালয়টির পরীক্ষার্থীরা ছুটাছুটি করছে প্রবেশপত্র হাতে নিয়ে। কারো ভুল হয়েছে মা- বাবার নাম, আবার কারো ছবির সঙ্গে মিল নেই। এমনকি কারো কারো ধর্ম পরিবর্তন হয়েছে। আবার অনেক পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি।

বিদ্যালয়টির মাঠে পরীক্ষার্থীদের চোখে-মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ। পরীক্ষার্থী আল আমিন ও নাজিয়া আযম বন্ধন জানায়, ‘একদিন পর পরীক্ষা। আমরা এখনো প্রবেশপত্র পাইনি। আমাদের নাকি ফরম পূরণ হয়নি। আমাদের মতো অনেকেই আছে। হেড স্যারকে বললাম, তিনি বললেন ধৈর্য ধরতে। এখন পড়াশুনা করবো নাকি প্রবেশপত্র নিয়ে চিন্তা করবো।’ বিদ্যালয়টির সাবেক সভাপতি শামসুজ্জোহা বলেন, ‘আমি তিন মাস আগেই বিদ্যায়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলাম। ওই সময়ে শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের কাজ হয়েছে। এই প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাজের জন্য যখন যে টাকার ভাউচার দিয়েছেন, সেখানেই স্বাক্ষর করে দিয়েছি। তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের অনলাইন ও কম্পিউটারের কাজ বাবদ দুই থেকে আড়াইশো টাকা নিয়েছেন। তার পরও কেন ভুল হবে? আমার জীবনে এমন প্রধান শিক্ষক দেখিনি যে, নিজে কিছু টাকা আত্মসাৎ করার জন্য শিক্ষার্থীদের জীবনে অনিশ্চয়তা ডেকে আনবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়টির এক শিক্ষক বলেন, ‘এতগুলো পরীক্ষার্থীর ভুল স্বাভাবিক না। কেউ মেনে নিবে না। আমাদের অনেক শিক্ষককেও অবিভাবকসহ অনেকেই ফোন দিচ্ছেন। হেড মাস্টারতো কোনো কাজেই আমাদের রাখেন না। প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিনি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একটু হিসাব নিতে চাইলেই আমাদের বেতন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন।’

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. রায়হান সরকার বলেন, ‘আমার কারণে ভুল হয়েছে। আমি সমাধান করে দেবো। একজন পরীক্ষার্থীও পরীক্ষা থেকে বাদ পড়বে না। সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাউকে টেনশন করতে হবে না।’ ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয় দেখা আমার কাজ না। শিক্ষা বোর্ড ও প্রধান শিক্ষকের এসব দেখার বিষয়।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram