ঢাকা
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
রাত ১২:১৭
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৭, ২০২৬
আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২৬
প্রকাশিত : এপ্রিল ১৭, ২০২৬

সিলেট পলিটেকনিকে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
 

কারিগরি শিক্ষাঙ্গণের জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ‘স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পর্ব ১৭ এপ্রিল সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেট অঞ্চলের ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে, যার মধ্য থেকে সেরা ৩টি উদ্ভাবন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়।

নির্বাচিত প্রকল্পগুলো হলো- স্মার্ট হোম ইকো সিস্টেম (সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট), ফেস ডিটেক্টর (মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট) এবং স্মোক এন্ড ফিউম কনট্রোলিং ওয়েল্ডিং হেলমেট (হবিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ)।  

কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ এবং তাদের নতুন নতুন উদ্ভাবন ও আবিষ্কার সবার সামনে তুলে ধরার অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্প আয়োজন করে।

দিনব্যাপী আয়োজিত স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ দাউদ মিয়া এনডিসি, সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব খান মোঃ রেজা-উন-নবী, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট। স্বাগত বক্তব্য দেন জনাব সামসুর রহমান খান, প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), ASSET প্রকল্প। অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জনাব মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন, অধ্যক্ষ, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মিফতা সিদ্দিকী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ASSET প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, “সারা পৃথিবীতে দক্ষ কর্মীর প্রচুর চাহিদা আছে। আমাদের তত কর্মী নাই। বিশ্ব শ্রম বাজারে আমরা কর্মীর যোগান দিতে পারছি না। যে সকল কর্মী আমাদের আছে, তাদের দক্ষতা নাই। তিনি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আরো বলেন, “সাধারণ শিক্ষা নিয়ে আজ আর তেমন লাভ হচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে। আমাদেরকে দক্ষ হতে হবে”।

স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশনের সাফল্য কামনা করে তিনি বলেন, “আমাদেরকে নতুন নতুন উদ্ভাবনে পারদর্শী হতে হবে। নিজ নিজ অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক সমস্যা নিজেরাই সমাধান করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এ জন্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে”। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সে লক্ষ্য পুরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, কারিগরি শিক্ষা এখন আর কোনো বিকল্প ধারা নয়। এ শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। “একটাই লক্ষ্য, হতে হবে দক্ষ” – এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদেরকে এগিয়ে যাবার আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক ‘স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’ উপলক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য রালি, কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক একটি সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এ প্রতিযোগিতায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সিলেট বিভাগ ও জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি এ অঞ্চলের কারিগরি, মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শিল্পকারখানা, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন।

এর আগে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর প্রাতিষ্ঠানিক পর্ব ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০,০০০ শিক্ষার্থী স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩,২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয়া প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে ৩টি করে প্রকল্প আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাছাই করা হয়। আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা শেষে স্কিলস এন্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-এর জাতীয় পর্ব আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ৮টি অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা থেকে নির্বাচিত প্রায় ৫০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত বা জাতীয় পর্বে বিজয়ী তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্ভাবকদের প্রদান করা হবে আকর্ষণীয় পুরস্কার।

সর্বশেষ
প্রকাশক ও সম্পাদক - সিকদার সাদেকুর রহমান
বার্তা সম্পাদক- জাহিদুল হাসান জাহিদ
কার্যালয়ঃ ৪ দারুসসালাম রোড, মিরপুর, ঢাকা।
aazkaalbangla@gmail.com
মোবাইলঃ +8801842280000
আজকাল বাংলা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বে-আইনী।
Copyright © 2021-2025 AjkalBangla.Com All Rights Reserved.
Host by
linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram